TOP NEWS

Showing posts with label আবিষ্কার. Show all posts

Thursday, May 9, 2013

সার্ভার কি? বিভিন্ন প্রকার সার্ভারের বর্ননা



সার্ভার কি?

সার্ভার বিভিন্ন প্রকারের হয় যেমন ওয়েব সার্ভার , এন.এন.পি.টি সার্ভার ,
ডাটাবেজ় সার্ভার , এফ.টি.পি সার্ভার ইত্যাদি । ওয়েব সার্ভার হল এমন এক
প্রকারের সার্ভার যা html বা css বা php ইত্যাদি হাইপার টেক্সট সাথে
সংযুক্ত ফাইল গুলোকে ক্লাইন্ট হোস্টে প্রেরন করে। মুল কথা হল কোন ওয়েব সাইট
কে যেখানে হোস্ট করা হয় তাকে ওয়েব সার্ভার বলে । বর্তমানে অনেক প্রকারের
ওয়েব সার্ভার দেখা যায় , যেমন মাইক্রোসফট এর আইআইএস বা IIS সার্ভার বা
লিনাক্স এর Apache . এবং সকল প্রকার ওয়েব সার্ভার এ http protocool
ব্যবহার করা হয় ।


আর এক প্রকারের সার্ভার আছে তার নাম এন.এন.পি.টি সার্ভার , এর পূর্ন নাম
হল Networks news transfer protocool বা NNTP সার্ভার । এই সার্ভার এর
মাধ্যমে আপনি ইন্টানেট এর খবর পড়তে এবং কোন খবর প্রকাশ করতে পারবেন ।



ডাটাবেজ় সার্ভার সার্ভার হল এমন এক প্রকারের সার্ভার যার মাধ্যমে আপনি
অনলাইনে বিভিন্ন তর্থ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষনের জন্য এই সার্ভার ব্যবহার করা
হয় । এ ছারা এটা ওয়েব বিষয় আর অনেক সেবা প্রদান করে । বিভিন্ন প্রকারের
ডাটাবেজ় সার্ভার আছে যেমন MY SQL , MS SQL, ORACLE ,IBM ইত্যাদি ।



আর এক প্রকারের সার্ভার আছে যার নাম এফ.টি.পি সার্ভার , এর পূর্ন নাম হল
File transfer protocool বা FTP । নাম দেখে বুঝতে পারছেন এটা ফাইল আদান
বা প্রদানের কোন সার্ভার । এই সার্ভার এর কাজ হল ফাইল আদান প্রদান করা
।এফ.টি.পি সার্ভা (File transfer protocool বা FTP) ব্যবহার করে আপনি
একাধিক ওয়েব হোষ্ট বা হোস্ট কম্পিউটার এ ফাইল শেয়ার করতে পারবেন ।
4:07 PM Posted by Just for you 0

Wednesday, May 8, 2013

ইন্টারনেট: এক বিদ্যুত খেকো দানব


২০০৬ সালের শুরুর দিকে ফেসবুক এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১০ মিলিয়ন। তখন ৪০ বাই ৬০ ফুট এর একটা ভাড়া করা ঘরে কয়েক সারি কম্পিউটারে জমা থাকতো মেম্বারদের তথ্য। আজকের দিনে সেই ফেসবুক তার এক বিলিয়ন এর উপর মেম্বারদের তথ্য জমা রাখতে তাদের ব্যবহার করতে হচ্ছে হাজার হাজার স্কয়ার ফুটে সারি সারি ভাবে সাজানো সার্ভার সমূহ। আর সেগুলো কে সচল রাখতে ব্যয় হচ্ছে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কুলিং সিষ্টেম।  শুধু ফেসবুক নয়, এটিএম থেকে টাকা তোলা,অনলাইন পত্রিকা পড়া, ইমেইল অ্যাটাচমেন্ট করা – প্রতি ক্ষেত্রে বিশাল পরিমাণ ডাটা প্রবাহিত হচ্ছে প্রতিটা ক্লিক এ।


নিউ ইয়র্ক টাইমস এর বছরব্যাপি নিরীক্ষায় দেখা গেছে, তথ্য প্রযুক্তির দুনিয়ার বুনিয়াদ এই সব ডাটা সেন্টার গুলি খুব সামান্য ই দক্ষভাবে বিদ্যুত্‍ ব্যবহারে ব্যর্থ এবং পরিবেশ অবান্ধব। সাধারণত সব অনলাইন কোম্পানী ই তাদের ডেটা সেন্টার সমূহ সর্বক্ষণ চালু রাখেন, তাতে সেটার চাহিদা থাকুক বা নাই থাকুক। সেই স্বেচ্ছাচারিতার কারণে ডাটা সেন্টারে বিদ্যুতের অপচয়ের পরিমাণ কোন কোনও ক্ষেত্রে ৯০% ছাড়িয়ে যায়। নূন্যতম পাওয়ার ফেলিওর এড়ানোর জন্য নির্ভর করতে হয় বিশালাকার জেনারেটর এর উপর- যেগুলো কিনা বেশীরভাগ ক্ষেত্রে ডিজেল অথবা পেট্রোল চালিত। সিলিকন ভ্যালী’র রাজ্য সরকারের সবথেকে উচ্চ মাত্রার দূষণকারীর তালিকায় রয়েছে সব ডাটা সেন্টার গুলো ।

টাইমস’ এর ওই সমীক্ষায় আরো জানা যায়- বিশ্বব্যাপী সব ডিজিটাল ওয়ার হাউজ খরচ করে ৩০ বিলিয়ন ওয়াটস ইলেক্ট্রিসিটি- ৩০ টি নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট থেকে পাওয়া সম্ভব। এর মধ্যে আমেরিকা তে খরচ হয় এক চতুর্থাংশ থেকে এক তৃতীয়াংশ। কয়েকশ ডাটা সেন্টারএর ডিজাইনার পিটার গ্রস বলেন: “ সাধারণ মানুষের পক্ষে কিছু সংখা দেখে আইসিটি ইন্ডাসট্রি’র বিশালতা বোঝা অসম্ভব, একটা ডাটা সেন্টারের বিদ্যুত্‍ চাহিদা কোনও মাঝারী মাপের শহরের চাহিদার থেকে বেশি”। আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি, ঐসব ডাটা সেন্টার সাধারণ সময়ে তাদের ক্ষমতার 6 থেকে 12 শতাংশ কম্পিউটিং পাওয়ার ব্যবহার করে, বাকিটা রাখা হয়েছে ভবিষ্যত চাহিদা আর যে কোন দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য। এই চরম সত্য অনেকটা কল্প কাহিনীর মত মনে হবে বাস্তব জীবনের ইন্টারনেট এ – যেখানে সবাই বসবাস করে “virtual” জগতে এবং সব ঘটনা ঘটে “ক্লাউড” রাজ্যে।

এই অকার্যকর ভাবে বিদ্যুত্‍ অপচয় এর পেছনে আমরা- ভোক্তারা ও কিন্তু কম দায়ী নই! আমরা চাই ক্লিক করার নিমেষেই যেন হাজির হয় আর সেটার চাহিদা মেটাতে কোম্পানীগুলো বাধ্য হয়। আমাদের চাওয়া যে নেহায়েত অমূলক- তা বলছিনা! যে হারে বাড়ছে প্রসেসর আর হার্ড ডিস্ক এর ক্ষমতা সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডেটা স্পীড। তাহলে উপায়?

উপায় একটা ই পরিবেশ বান্ধব ও বিদ্যুত্‍ সাশ্রয়ী ডেটা সেন্টার। সেটা করা যেতে পারে বিভিন্ন উপায়ে- হতে পারে বিকল্প জ্বালানি চালিত জেনারেটর, কম তাপমাত্রা নির্গমন করে এমন যন্ত্রাংশ। ডেটা সেন্টারের তাপমাত্রা মূলত বেড়ে যায় প্রসেসর গুলোর কারণে আর হাজার হাজার হার্ডডিস্ক এ ঘূর্ণমান মোটরের ফলে। আর এগুলোকে কর্মক্ষম রাখতে প্রয়োজন পড়ে বিশালাকার কুলিং সিষ্টেম। সম্ভাবনার কথা হল- এখন প্রসেসর নির্মাতারা মনোযোগী হচ্ছেন বিদ্যুত্‍ সাশ্রয়ী চিপ নির্মাণে। কিন্তু পরিবেশ বান্ধব ও বিদ্যুত্‍ সাশ্রয়ী মেমোরি খুব একটা নজরে পড়ে না । খুব সীমিত পরিসরে গবেষণা চলছে অর্গানিক স্টোরেজ নিয়ে। কিছুদিন আগে RUET এর এক সেমিনারে আমি বলেছিলাম ডিএনএ নির্ভর ডেটা স্টোরেজ ই হতে পারে এইসব ডেটা সেন্টারএর ভবিষ্যত তথ্যের আধার।

শুনতে আশ্চর্য হলেও সত্যি; এক গ্রাম ডিএনএ তে জমা রাখা যেতে পারে ৭০০ টেরাবাইট্স ডেটা! বেশকিছু বাড়তি সুবিধা পাওয়া যাবে যদি আমরা সত্যিই একে কাজে লাগাতে পারি:

প্রথমত: অসাধারণ ঘনত্ব

দ্বিতীয়ত: ঘনমিক সাইজ

তৃতীয়ত: নির্ভরযোগ্য

অর্গনিক হবার কারণে এতে তথ্য জমা রাখা হয় জৈব-রাসায়নিক উপায়ে- ইলেক্ট্রনিক ডেটা’র ক্ষুদ্রতম একক যেমন “বিট”, অর্গনিক ডেটা’র হল “বেইজ”। ০ আর ১ কে এখানে উপস্থাপন করতে হয় ৪ টা বেইজ দিয়ে:

Adenine (A) –> 0

Guanine (G) – > 1                                  

Cytosine (C) –> 0

 Thymine (T) — > 1
হয়ত একদিন আমরা আমাদের শরীরের মধ্যে করে ই মুভি নিয়ে ঘুরবো, কে জানে!!

মূল লেখক  ঃ খান রিয়াজ
4:01 PM Posted by Just for you 0

Monday, August 13, 2012

এটা কি মশা নাকি অন্য কিছু???



ছবিটি ভালভাবে দেখুন, কি, অন্যরকম মনে হচ্ছে? মশার সাথে মিল আছে তবুও একটু অন্যরকম তাইনা?
হ্যাঁ সত্যিই এটা মশার আকাড়ে তৈরী গোয়েন্দা মশা। এই মশা US gov এর অথায়নে তৈরী হচ্ছে। এটা দুর হতে নিয়ন্ত্রন সম্ভব এবং এর সাথে ক্যমেরা ও মাইক্রফোন সংযুক্ত আছে।

এটা আপনার শরীরে অনায়াসে বসতে পারে (যেমন মশা বসে)। বসে শরীর হতে DNA sample সংগ্রহ বা RFID (Radio Frequency Identification) ট্রাকিং ন্যনো প্রযুক্তি ছেড়ে দিতে পারে আপনার উপর গোয়েন্দাগির করার জন্য। এটা সাধারন মশার মত জানালা দিয়ে বা আপনার পরিহিত কাপড়ের মাধ্যমেও আসতে পারে আপনার ঘাড় পর্যন্ত।

কি চমকে গেলেন? দেখুন মশা ভেবে কয়টা স্পাই মশা এপযন্ত মেরেছেন হা হা হা।

আজ এ পযন্তই নতুন কিছু পেলে লিখব এই আশায় শেষ করছি।
9:46 PM Posted by Just for you 2

Monday, February 27, 2012

আইনস্টাইনের তত্ত্ব ভুল নয়!!!


আইনস্টাইনের তত্ত্ব বলে কথা! মাত্র ক’মাস আগে যে বিজ্ঞানীরা আইনস্টাইনের একটি তত্ত্বকে ভুল বলে ধারণা দিয়েছিলেন এখন তাঁরাই স্বীকার করছেন যে, ভুল, ঐ বিখ্যাত বিজ্ঞানীর তত্ত্বে নয়, হয়েছে হয়তো নিজেদেরই গবেষণায়৷

ইতিহাস
গত বছর সেপ্টেম্বরে ইউরোপের একদল বিজ্ঞানী বলেন, আলোর চেয়ে দ্রুত গতিতে চলে নিউট্রিনো৷ প্রায় তিনবছর গবেষণার পর এই তথ্য প্রকাশ করেন সার্নের বিজ্ঞানীরা৷ সার্ন হচ্ছে বিশ্বের অন্যতম বড় পদার্থবিজ্ঞান গবেষণাগার৷
বিজ্ঞানীদের এই তথ্য হুমকির মুখে ফেলে দেয় বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত সমীকরণ E=MC² অর্থাৎ আইনস্টাইনের ‘থিওরি অব স্পেশাল রিলেটিভিটি' বা বিশেষ আপেক্ষিকতা তত্ত্বকে৷ কেননা এই তত্ত্বের মূল কথা হচ্ছে, আলোর চেয়ে দ্রুতগতির আর কিছু নেই৷ আজ থেকে প্রায় ১০৬ বছর আগে আইনস্টাইন এই কথা বলেছিলেন৷ পরবর্তীতে অনেকবার পরীক্ষা করা হলেও আইনস্টাইনের কথাটাই সত্য বলে প্রমাণিত হয়৷ বিশেষ আপেক্ষিকতা তত্ত্বের উপর ভর করেই দাঁড়িয়ে আছে পদার্থবিজ্ঞানের অন্যান্য অনেক তত্ত্ব৷
সার্নের গবেষণা ফল প্রকাশিত হওয়ার পর নড়েচড়ে বসেন বিশ্বের তাবৎ বিজ্ঞানী৷ তাদের বেশিরভাগই মনে করতে থাকেন যে, নিশ্চয় কোথাও গণ্ডগোল হচ্ছে! কেননা এতদিনকার একটা তত্ত্ব আজ হঠাৎ ভুল বলে প্রমাণিত হবে - সেটা মেনে নিতে পারছিলেন না তাঁরা৷ সন্দেহের মধ্যে ছিলেন খোদ গবেষকরাও৷ নিজেদের গবেষণার ফল নিজেদেরই বিশ্বাস হচ্ছিলনা! তাই বারবার একই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে চেয়েছেন তাঁরা৷ কিন্তু সবসময় একই ফল পান গবেষকরা৷ এরপর যেদিন গবেষণার ফল প্রকাশ করা হয় সেদিন তাঁরা এই বিষয়ে আরও গবেষণা করার জন্য বিশ্বের অন্যান্য বিজ্ঞানীদের আহ্বান জানান৷
কোথায় ত্রুটি?
সম্প্রতি অ্যামেরিকার বিখ্যাত জার্নাল ‘সায়েন্স ইনসাইডার'এ একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়৷ তাতে সার্নের বিজ্ঞানীদের গবেষণায় সম্ভাব্য দুটি ত্রুটির কথা উল্লেখ করা হয়৷ এর একটি ‘লুজ' অর্থাৎ ঢিলা অপটিক্যাল ফাইবার কানেকশন - যে কারণে সময় গণনায় ভুল হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে৷ আর আরেকটি ত্রুটি হতে পারে ‘অসিলেটর'এ৷ এটাও সময় গণনার একটি যন্ত্র৷
মার্কিন ঐ জার্নালের প্রতিবেদনের পর সার্নের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দেয়া হয়েছে৷ তাতে সম্ভাব্য ঐ দুটি ত্রুটির কথা স্বীকার করে নেয়া হয়েছে৷ এবং বলা হয়েছে, আগামী মে মাসে তারা আবার নতুন করে গবেষণা শুরু করবেন৷
সার্নের মুখপাত্র জেমস গিলিস বলেন, গবেষণার ফল এখন সন্দেহের মুখে৷ আরেক মুখপাত্র আর্নড মার্সোলিয়ার বলেন, এটা একটা জটিল গবেষণা৷ অনেক কেবল আর যন্ত্র নিয়ে কাজটা করতে হয়েছে৷ পদার্থবিজ্ঞানীরা আবার সবকিছু পরীক্ষা করে দেখা শুরু করেছেন, এবং এটা চলবে৷
পূর্বের গবেষণা
সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরের কাছে সার্নের ল্যাবরেটরি অবস্থিত৷ বিজ্ঞানীরা সেখান থেকে ৭৩০ কিলোমিটার দূরে থাকা ইটালির রোমের কাছে মাটির নীচের ‘গ্রান সাসো' ল্যাবরেটরিতে নিউট্রিনো পাঠান৷ এসময় তারা দেখতে পান যে, আলোর চেয়েও দ্রুতগতিতে লক্ষ্যে পৌঁছে গেছে নিউট্রিনো৷ সংখ্যার হিসেবে, নিউট্রিনো আলোর চেয়ে ৬০ ন্যানোসেকেন্ড বেশি দ্রুতগতির৷ অর্থাৎ এক সেকেন্ডকে যদি একশো কোটি ভাগ করা হয়, তাহলে তার ৬০ ভাগ যতটুকু সময় হবে ঠিক ততটুকু সময় আগে নিউট্রিনো রোমের ল্যাবরেটরিতে গিয়ে পৌঁছে৷
সার্নের এই গবেষণা ফল নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে সেসময়, বেঁচে থাকা পদার্থবিজ্ঞানীদের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত স্টিফেন হকিং, আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছিলেন৷ আরেক ব্রিটিশ বিজ্ঞানী ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের কণা-পদার্থবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক জেফ ফোরশাও বলেছিলেন, সার্নের গবেষণার ফল যদি সত্যি হয় তার মানে হলো আজকের তথ্য পাঠিয়ে দেয়া যাবে অতীতে৷ অর্থাৎ তিনি বলতে চেয়েছেন, ‘‘আমরা কল্পবিজ্ঞানে হরহামেশাই যে ‘টাইম ট্রাভেল'এর কথা পড়ি সেটা সত্যি হবে৷'' তবে সঙ্গে সঙ্গে তিনি এও স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন, তার মানে এই নয় আমরা খুব তাড়াতাড়িই টাইম মেশিন বানাতে যাচ্ছি৷
নিউট্রিনো কী?
সার্নের এক বিজ্ঞানীর মতে, নিউট্রিনো সাধারণত পরমাণু চুল্লিতে তৈরি হয়৷ ১৯৩৪ সালে প্রথমবারের মতো নিউট্রিনোর অস্তিত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত এটা শুধু বিজ্ঞানীদের অবাকই করে যাচ্ছে৷ এ কারণে অনেকে নিউট্রিনোকে ‘ভুতুড়ে কণা' বলে থাকে৷
3:50 PM Posted by Just for you 0

মস্তিস্কের স্মৃতিচারণ-১


আমাদের মস্তিস্ক আমাদের জন্য সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। যা আমাদের প্রতিদিনের জীবনে ঘটে যাওয়া সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্নার মূহর্ত গুলোকে ভিডিও ক্যামেরার মত সংরক্ষণ করে রাখে। আবার আমরা চাইলেই  মনের মুক্ত ক্যানভাসে মূহর্ত গুলোকে ফিরিয়ে আনতে পারি আর এই প্রক্রিয়াটিই হচ্ছে স্মৃতিচারণ।
আমার এক বন্ধু, তার নামটা এখন আমার ঠিক মনে নেই, সে ভাল কবিতা লিখতে পারত, দু একদিন আমাকেও পড়ে শুনিয়েছে। তার নিজের লেখা কোন একটা কবিতার দুটো লাইন হঠাৎ মনে পরে গেলো……..
“স্মৃতি তুমি গুপ্ত মনে সুপ্ত ব্যাথার সাড়া
ফেলে আসা দিন গুলোকে বাড়ে বাড়ে দাও নাড়া”

আসলে ঠিক তাই, ফেলে আসা দিনের মধুর স্মৃতি গুলোকে মনে করে আমরা অনন্দ পাই, আবার দুঃখের স্মৃতি গুলোও মাঝে মাঝে আমাদের নাড়া দিয়ে যায়, ব্যাথিত করে মনকে।
আমরা দুজন একই সাথে BCAতে একই কলেজে পড়েছিলাম, সে এখন ঠিক কোথায় আছে কি করছে তা আমার জানা নেই। আবার আমার বিষয়েও সে কিছু জানে না অর্থাৎ তার সাথে আমার আবার পূণমিলনের সম্ভাবনা আছে মাত্র কয়েকটা পদ্ধতিতে।
  • যদি কখোনো আমাদের দেখা হয় এবং সে আমাকে দেখে চিনতে পারে।
  • যদি কখোনো আমাদের দেখা হয় এবং তাকে দেখার পর তার চেহারা আমার মনে পড়ে ।
  •  আমরা দুজনেই যদি কোনভাবে আমাদের জীবনের গল্প এবং বর্তমান ঠিকানা বা যোগাযোগের মাধ্যম খুঁজে পাই।
  • তৃতীয় কোন বন্ধু বা ব্যাক্তি  যিনি আমাদের সম্পর্কে জানেন এবং আমাদেরকে নতুনভাবে পরিচয় করিয়ে দেন।
আসলে সবকিছুই অনুশীলনের বিষয় । আমাদের মস্তিস্কও তার ব্যাতিক্রম নয়। আমরা প্রতি মূহর্ত পার করছি নতুন নতুন অসংখ্য ঘটনার মধ্যদিয়ে । আর আমাদের মস্তিস্ক্ও এগুলোকে সংরক্ষণ করার চেষ্টা করছে। সকল ঘটনাই যে সমান ভাবে আমাদের মনে থাকবে এমনটাও ঘটে না।
কালের আবর্তন, ঘটনা সংঘটনের সময়, ঘটনা সংঘটনের স্থান এবং ব্যাপ্তি, একই ধরণের অন্যান্য ঘটনা, আপনার স্মৃতিচারণ, নিয়মিত যোগাযোগ, বিশেষ কোন উপলক্ষ, লিখিত বিবরণ ইত্যাদি বিষয় গুলো আমাদের মস্তিস্ককে প্রভাবিত করে। ঠিক যেমনটা ঘটেছে আমার আর আমার বন্ধুটির ক্ষেত্রে। একটু পর্যবেক্ষণ করা যাক ঠিক কি কি বিষয় আমাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করেছে।
  • দীর্ঘদিন আমাদের যোগাযোগ নেই।
  • আমরা যে একসাথে অনেক ঘণিষ্ঠ ভাবে মিশেছিলাম এমনটিও ছিলনা, আর্থাৎ ঘটনার ব্যাপ্তিও কম ছিল।
  • বেশ অনেকটা সময় কলেজে যাওয়া হয়নি অর্থাৎ দীর্ঘসময় ঘটনা সংগঠনের স্থানের সাথে কোন সম্পর্ক ছিলনা।
  • আমার ডায়রীতে তার সম্পর্কে কিছু লেখা নেই, অর্থাৎ আমি যখন ডায়রীতে লিখি তখন আমার তার বিষয়ে স্মৃতিচারণ করার সুযোগ ছিলোনা।
  • আজ আমার তার কথা মনে পড়ার ক্ষেত্রে , কবিতার লাইন দুটো বিশেষ উপলক্ষ হিসেবে কাজ করেছে।
দুটি কথা:
ডায়রী লেখাটা অনেকের শখের বিষয় হলেও এটা আমাদের মস্তিস্কের কার্যক্ষমতা বর্ধনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে। এছাড়া জীবনে এমন সময় আসতে পারে আপনার নিজের হাতে লেখা ডায়েরীটা অনেক মূল্যবান হয়ে উঠতে পারে আপনার জন্য অথবা অন্যকারো জন্য।
……………………………………………………………………………..
আজ এ পর্যন্ত্ই। সবার জন্য শুভ কামনা রইল।
1:09 AM Posted by Just for you 0

Sunday, January 22, 2012

।। হিডেন ক্যামেরা ।। সতর্ক হওয়ার সময় এখনই ।।


সুপ্রিয় বন্ধুগণ।
‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ’
  • কেমন আছেন সবাই,আসা করি ভাল…সবাই ভাল থাকুন এই কামনা করে আজকের টিউন।দৈহিক সুস্থতার জন্যে প্রয়োজন সুষম খাবার গ্রহণের পাশাপাশি শারীরিক পরিশ্রম। কিন্তু পরিশ্রম পরিকল্পিত না হলে দৈহিক সৌন্দর্য ও সুস্থতা নিশ্চিত হয় না। দেহের প্রতিটা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের পরিমিত সঞ্চালন ও সক্রিয়তা না হলে দেহবিন্যাস সুষম ও সুগঠিত হতে পারে না। এজন্যেই দেহের জন্য দরকার হয়ে পড়ে পরিকল্পিত শরীরচর্চা বা ব্যায়ামের।কষ্ঠ হলেও নামাজ পড়ুন আল্লাহ্‌র এবাদত এবং শরীরচর্চা বা ব্যায়াম হবে।এই বলে আজকে আপনাদের জন্য পোস্ট।
  • আধুনিক যুগে  বেচেঁ থাকার জন্য মানুষ প্রযুক্তিগত জিনিস ব্যাবহার করে।এবং নিজ সুবিধার জন্য আপনি সিক্যারিউটি ও রাখেন।আপনার যেমন সুবিধা দিবে,তেমনি ক্ষতিও করবে। 
  • নারী দেহের প্রতি পুরুষের আকর্ষণ বিধাতা কর্তৃক প্রদত্ত। কিন্তু তা যদি সীমা অতিক্রম করার মত হয় তাহলে তা আলোচিত হওয়ার মতই একটি বিষয় হয়ে দাড়ায়। মেয়েদের পোশাক পরিবর্তন করার স্থানগুলোতে গোপন ক্যামেরা স্থাপন করে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হওয়া আজকের সর্বাধিক আলোচিত একটি ইস্যু। আপনার বোন পোশাক কিনতে গিয়ে কাপড় বদলাচ্ছে, কেউ না কেউ তা দেখছে; ভিডিও করছে। রুমে অন্তরঙ্গ মুহূর্তে আছেন, রেকর্ড হয়ে স্পেশাল পর্ণ হয়ে কারো বিশাল ব্যবসায় পরিনত হয়ে যাচ্ছে আপনার ভিডিও। আপনি হয়ত জানতেই পারবেন না আপনি পর্ণগ্রাফির মডেল হয়ে গিয়েছেন। আমাদের মা-বোনের ইজ্জত আজ পরিনত হতে চলেছে আরেকজনের মনোরঞ্জনের খোরাকে।

    হিডেন ক্যামেরা কোথায় বসান হয়?
    গোপন ক্যমেরা কোথায় বসানো হয় তা স্পেসিফিকভাবে বলা মুশকিল। আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না গোপন ক্যামেরা আজকাল কোথায় কোথায় বসান হচ্ছে। সাধারনত যেখানে মেয়েরা কাপড় পাল্টায় যেমন  শপিংমলের ফিটিং বা ড্রেসিং রুম, বাথরুম, বিউটি পার্লার এগুলো গোপন ক্যামেরার আইডিয়াল স্থান। এছাড়া, আবাসিক হোটেলগুলোর বেডরুম, বাথরুম ইত্যাদিতেও গোপন ক্যামেরা থাকতে পারে।  নিচের ছবিগুলো দেখলেই বুঝতে পারবেন গোপন ক্যামেরা কোথায় কোথায় থাকতে পারে।
    *আপনার বাসার রুমে ও অফিসে নিরাপদ রাখে এই ক্যামেরাটি।










    অনেকক্ষেত্রে আবার আয়নাকেও হিডেন ক্যামেরা হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। এক্ষেত্রে আয়নাটি ডুয়েল মিরর হিসেবে কাজ করে। ডুয়েল মিররের উল্টোপাশ থেকে আয়নার এপাশের সবকিছুই স্পষ্টভাবে দেখা যায় সাধারন কাঁচের মত। কিন্তু এপাশ থেকে দেখলে এটাকে একটা আয়না ছাড়া আর কিছুই মনে হবেনা। অনেক গেস্ট হাউজে এই ডুয়েল মিররের উল্টোপাশে ক্যামেরা বসিয়ে কাপলদের ক্লিপ রেকর্ড করা হয়। 


    কিভাবে নিরাপদ থাকব? 
    • গোপন ক্যামেরা আছে সন্দেহ হলে চারপাশ ভাল করে দেখুন। কোথায় কোথায় গোপন ক্যামেরা থাকতে পারে তা তো দেখলেন। এছাড়াও ছাদের কোণা, দেয়ালের ছবি, ফুলের টব বা সন্দেহজনক সকল স্থান ভাল করে পর্যবেক্ষণ করুন।
    • গেস্ট হাউজ বা আবাসিক হোটেলে উঠার পূর্বে সম্ভব হলে একটি Mini hidden camera detector বা RF signal detector কিনে সাথে রাখতে পারেন। এগুলো খুবই ছোট সহজে বহনযোগ্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস। 
    • মুলত রুমের অন্ধকার স্থানগুলিতে গোপন ক্যামেরা বসানো হয়। রুমের তুলনামুলক অন্ধকার স্থানগুলো ভাল করে দেখে নিন। 
    অন্ধকারে রাখা হিডেন ক্যামেরার ধারণকৃত দৃশ্য
    • রুমে যদি আয়না থাকে আর তা যদি আপনার সন্দেহ হয় তাহলে আয়নার উপর একটা আঙ্গুল রাখুন। আপনার আঙ্গুল আর আয়নার আঙ্গুলের প্রতিবিম্বের মাঝখানে যদি কোন ফাক না থাকে অর্থাৎ দুটি আঙ্গুলের মাথা যদি একেবারে একটার সাথে আরেকটা লেগে থাকে তাহলে বুঝবেন এটা ডুয়েল মিরর। আর যদি মুল আঙ্গুল ও আয়নার আঙ্গুলের মাঝে একটু ফাক থাকে তাহলে এটা একটা সাধারন আয়না হিসেবে ধরে নিতে পারেন।
    • বেশিরভাগ ক্যামেরার পাওয়ার অন করার পরপরই একটি এলইডি বাতি জ্বলে উঠে। রুম পুরোটা অন্ধকার করে কিছুটা সময় নিন যাতে আপনার চোখে অন্ধকারটা সয়ে যায়। এবার খুব ভাল করে লক্ষ্য করুন লাল, সবুজ বা হাল্কা নীল রঙের আলো কোথাও থেকে বের হচ্ছে কিনা। যদি এমনটি হয়, তাহলে আপনি নিশ্চিত যে সেটা ক্যামেরা। 
    • গোপন ক্যামেরা খুজে পেতে এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি পদ্ধতি। অনেক ক্যামেরাতে মোশন ডিটেক্টর থাকে অর্থাৎ আপনি যেদিকে যাবেন, ক্যামেরাও সেদিকে ঘুরে যাবে। এধরনের ক্যামেরা খুজে পেতে প্রথমে রুমের সব জানালা দরজা বন্ধ করে পুরো রুম অন্ধকার করে কিছু সময় অপেক্ষা করুন। এবার, কোন শব্দ না করে রুমে এদিক ওদিক যান যাতে করে ক্যামেরা আপনাকে ফলো করে। এবার খুব ভাল করে খেয়াল করুন ক্যামেরা আপনাকে ফলো করে ঘুরে যাওয়ার সময় কোন শব্দ হচ্ছে কিনা। 
    সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে গোপন ক্যামেরার হাত থেকে বাচতে চাইলে আপনার সতর্কতাই যথেষ্ট। সো সতর্ক থাকুন অলটাইম। 
    • আপনি হয়তো জিনিসটা আগে জানতেন কিনা জানি না ।কিন্তু প্রযুক্তিগত জিনিস গুলো কাজে ব্যবহার হয়ে থাকে তা জানালাম।আপনি নিজে ও আপনার পরিবার সহ একটু সাবধান হন।
    এই প্রত্যাশা রেখে 
    আল্লাহ হাফেজ”

    *আপনাদের কাছে একটা অনুরোধ ''নিজের জন্য সবকিছু শিখুন,নিজ এবং কারো ক্ষতি করার জন্য নয়, সে যেই হোক'' আল্লাহ মাফ করার মালিক।কোরআন ও হাদিস পডুন।আরেক মুসলমান কে-কষ্ঠ হলেও এ সুখবর পৌছেদিন মুসলমান ভাই হিসেবে খুশি হব।
11:34 AM Posted by Just for you 0

Tuesday, January 17, 2012

মেডিকেল জগতের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ কিছু অবিশ্বাস্য কীর্তি!!!

গত বিশ-তিরিশ বছরে বিজ্ঞানের কোন শাখায় মানুষ সবচেয়ে সফল হয়েছে? কেউ বলে মেডিকেল, কেউ বলে কম্পিউটার, কেউ বলে ইলেকট্রনিক্স। কিন্তু এক মেডিকেল জগতের অবিশ্বাস্য কিছু কীর্তি মনে হয় সব ছাপিয়ে এ পর্যন্ত মানুষের সেরা কীর্তি হিসেবে স্থান দখল করে নিয়েছে। 'রাখে খোদা, মারে কে’ প্রবাদের অবদানে হোক, আর মানুষের আপ্রাণ চেষ্টার ফলে হোক, এই ঘটনাগুলো থেকেই স্পষ্ট বোঝা যায়, চিকিৎসাবিজ্ঞান আজকে কতোটা মহীরুহ অবস্থানে পৌঁছেছে।




১. ৩৭ বছর বয়স্ক আলসিডেজ মরেনোর ভাগ্যটা অসম্ভব ভাল বললেও কম বলা হয়। নিউ ইয়র্কের ৪৭ তলা স্কাইস্ক্র্যাপার থেকে মাটিতে পড়েও তিনি বহাল তবিয়তে বেঁচে আছেন! তিনি আর তাঁর ভাই একই সাথে ভবনটির ছাদ থেকে কাজ করার সময় মাটিতে পড়ে যান, তাঁর ভাই সাথে সাথে মারা যায়। কিন্তু টানা তিন সপ্তাহ কোমায় থাকার পর তিনি ধীরে ধীরে জ্ঞান ফিরে পান, এবং তিন বছরের মধ্যে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে হাঁটাচলা শুরু করেন। যে ডাক্তার তাঁর চিকিৎসা করেন, তাঁকে জন হপকিন্স ভার্সিটি থেকে বিশেষ পুরষ্কার দেয়া হয়।




২. ১৭ বছর বয়স্ক টিনেজ মডেল ক্যাটরিনা বার্গেজ তার বিএমডব্লিউ এম৫ গাড়ি নিয়ে প্রায় দেড়শো কিলোমিটার গতিতে একসিডেন্ট করার পরও এখনো মডেলিং করে যাচ্ছে, যদিও একসিডেন্টে তার মেরুদণ্ড বাঁকা হয়ে গিয়েছিল, দুটো ফুসফুসই ফুটো হয়ে গিয়েছিল, পাঁজরের বেশ কয়েকটি হাড় সম্পূর্ণ্ ভেঙে গিয়েছিল, পেলভিস এবং বাঁ পায়ের হাড়ও ভেঙে গিয়েছিল।সার্জনরা তার কোমর থেকে বাঁ পা পর্যন্ত একটা লম্বা রড চারটি টাইটানিয়াম পিন দিয়ে জুড়ে দেন, মেরুদণ্ডকে সাপোর্ট দেয়ার জন্যে ছয়টা রড পিঠে অপারেশন করে বসানো হয়, ঘাড়ে অপারেশন করে টাইটানিয়ামের স্ক্রু দিয়ে তার ভাঙা ঘাড় জুড়ে দেয়া হয়। এবং অতি আশ্চর্যজনকভাবে, মাত্র পাঁচ মাসের মাথায়ই সে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে আবার তার এজেন্সীতে মডেলিং শুরু করে!


৩. ১৪ বছর বয়স্ক ডি’জানা সিমন্স কোন হৃৎপিন্ড ছাড়াই প্রায় চার মাস বেঁচে ছিল! তার অতিরিক্ত বড় হৃৎপিণ্ড ট্রান্সপ্লান্ট করে নতুন একটা হৃৎপিণ্ড বসানো হয়, কিন্তু সেটা ঠিকমতো কাজ না করায় তার শরীরের রক্ত চলাচল প্রায় থেমে যায়। তখন ডাক্তাররা তড়িঘড়ি করে দুটি আর্টিফিসিয়াল পাম্পার বসান, যেটা প্রায় চারমাস তার শরীরে রক্ত সরবরাহ করে, এবং এ সময়ের মধ্যে সিমন্সের শরীরে কোন হৃৎপিণ্ড ছিল না! পরে ডাক্তাররা তার শরীরের উপযোগী করে হার্ট ট্রান্সপ্ল্যান্ট করেন।


৪. মার্টিন জোন্স নামক ৪৭ বছর বয়স্ক এক শ্রমিকের মুখের ওপর অ্যালুমিনিয়াম বিস্ফোরণে তিনি তাঁর দুটো চোখই হারান, বাম চোখ সম্পূর্ণ, এবং ডান চোখের লেন্স ঝলসে যায়। তার মুখের ৩৭ ভাগ অংশ পুড়ে যায়। নটিংহাম মেডিকেলের ডাক্তাররা ডোনারের চোখের সাহায্যেও তাঁর ডান চোখের দৃষ্টি ফেরাতে ব্যর্থ হন। এরপর ব্রাইটনের সাসেক্স আই হসপিটালের ডাক্তাররা তাঁর একটা দাঁত খুলে সেটাকে রিশেপ করে কেমিক্যাল মিশিয়ে একধরনের ছাঁচ তৈরি করেন, যেটা বিশেষ ধরনের লেন্স হিসেবে কাজ করে। এর সাহায্যে তিনি আবার দৃষ্টিশক্তি ফিরে পান।


৫. পেং শাওলিনকে একটি লরি চাপা দিয়ে রীতিমতো অর্ধেক করে ফেলে প্রায় দশ বছর আগে। তার শরীরের কোমরের নিচ থেকে বাকি অংশ সম্পূর্ণ থেঁতলে যায়। কিন্তু ২০ জন বিশ্বসেরা সার্জনের আপ্রাণ চেষ্টায় পেং এখনো বেঁচে আছে, এবং সে হাঁটাচলাও করতে পারে! চায়না রিহ্যাবিলিশেন সেন্টারের ডাক্তাররা তার জন্যে একটা ডিমের মতো পাত্র তৈরী করেন, যেখানে তার শরীর বসানো হয় এবং আর্টিফিসিয়াল পা যোগ করা হয়।


৬. ২২ বছর বয়স্ক সুপ্রতীম দত্তের রোড একসিডেন্টে তার বুকের ভেতর প্রায় ৫ ফুট লম্বা লোহার রড ঢুকে যায়। সিঙ্গাপুরের সার্জনদের চেষ্টায় সেই রড সফলভাবে তার বুক থেকে বের করে নেয়া হয়, এবং মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায়ই সে আবার হাঁটাচলার উপযোগী হয়ে ওঠে।


৭. মাত্র ১৭ মাস বয়সেই নিকোলাস হোল্ডম্যান চিরজীবনের মতো তার দৃষ্টিশক্তি হারাতে বসেছিল।তার দুই ভাইয়ের সাথে খেলার সময় নিকোলাস খাট থেকে উপুড় হয়ে পড়ে যায়, এবং মেঝেতে থাকা চাবির গোছা তার চোখ দিয়ে ঢুকে যায়। সাথে সাথে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়, এবং ডাক্তাররা অবাক বিস্ময়ে লক্ষ করেন চাবিটি নিকোলাসের আইবলের উপর দিয়ে গিয়ে মস্তিষ্কে গেঁথে গেছে! এরপর সফল অপারশনের মাধ্যমে নিখুঁতভাবে তার চোখ থেকে চাবিটি বের করে নেয়া হয়, এবং মাত্র ছয়দিনের মাথায়ই নিকোলাস সুস্থ হয়ে ওঠে।


৮. পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি বয়সে মা হবার অভিজ্ঞতা রজদেবীর। স্বামী বলরামের শুক্রাণুজনিত সমস্যার কারণে ৫০ বছরের সংসারে তাদের কোন সংসার হয়নি। অবশেষে ৭০ বছর বয়সে virtro fertilization এবং intra cycloplasmic sperm নামক দুটো প্রযুক্তি ব্যবহার করে তিনি মা হতে সক্ষম হন, এবং বলরামের বয়স তখন প্রায় ৮২! বিভিন্ন রোগাক্রান্ত বৃদ্ধ বলরাম মৃত্যুর আগে শেষ ইচ্ছা হিসেবেই সন্তান চেয়েছিলেন, এবং ডাক্তার ও বিজ্ঞানীদের সফল প্রচেষ্টায় তাঁর ইচ্ছা পূরণ হয়েছে!


৯. ৪১ বছর বয়স্ক মিশেল হিল আততায়ীর হাতে ছুরিবিদ্ধ হন ১৯৯৮ সালে। ৮ ইঞ্চি লম্বা ছুরি তাঁর খুলি ভেদ করে মস্তিষ্কে প্রবেশ করে। সেই অবস্থাতেই তিনি হাসপাতালে যান, এবং আশ্চর্যজনকভাবে, সফল অস্ত্রপচারের মাধ্যমে ডাক্তাররা সেই ছুরি বের করে নিতে সক্ষম হন। তবে তিনি অনেকটাই স্মৃতিভ্রষ্ট হয়ে পড়েন, এবং কখনোই আর সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেননি।


১০. ৪৭ বছর বয়স্ক কনি কাল্পকে তাঁর স্বামী পিস্তলে বাঁট দিয়ে আঘাত করায় তাঁর নাক এবং মুখ সম্পূর্ণ থেঁতলে যায়। তাঁর স্বামীর সাত বছরের জেল হয়। নাক, মুখ ও চোয়ালের সব হাড় ভাঙার পাশাপাশি মিসেস কাল্পের ঘ্রাণশক্তি ও মুখ নাড়ানোর ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। ৩০ বার সফল অপারেশনের মাধ্যমে ডাক্তাররা তাঁর পাজরের হাড় থেকে নিয়ে গালের হাড়, এবং পায়ের হাড় থেকে কিছু অংশ নিয়ে চোয়ালের হাড় প্রতিস্থাপন করেন। তারপরও তাঁর পক্ষে নিজে থেকে শ্বাসগ্রহণ কিংবা খাদ্যগ্রহণ সম্ভব হচ্ছিল না। অবশেষে ডক্টর মারিয়া সিমানাও এর নেতৃত্বে ওই হাসপাতালে সদ্য মৃত একজন মহিলার মাংসপেশী, নার্ভ, রক্তনালী ও কিছু হাড় নিয়ে ২২ ঘন্টার অস্ত্রপচারের পর মিসেস কাল্পের মুখের সব অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হয়।


১১. কার একসিডেন্টে জর্ডান টেলরের মাথা ধড় থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন হয়ে যায়, কোন হাড় ছাড়া শুধু মাংপেশী ও চামড়ার সাহায্যে মাথা শরীরের সাথে লেগে থাকে। জর্ডানের বাঁচার সম্ভাবনা ১% ঘোষণা দিয়েই ডাক্তাররা অপারেশন শুরু করেছিলেন, এবং ১৮ ঘণ্টার টানা সফল অপারেশনের পর জর্ডান আবারও সুস্থ হয়ে ওঠে। তার মায়ের অনুরোধে সেই শহরের ২০টিরও বেশি চার্চে তার জন্যে প্রার্থনা করা হয় অপারেশনের সময়।


১২.যদিও আধুনিক মেডিকেলের শ্রেণীতে ১৮৪৮ সালে ঘটে যাওয়া ফিনেস গেগ-এর ঘটনা পড়েনা, তবুও নিঃসন্দেহে একে মিরাকলের জায়গায় স্থান দেয়া যায়, বিশেষ করে তখনকার প্রেক্ষাপটে। নিউমারোলজির ছাত্র-ছাত্রীদের আজও বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার উদাহরণ দেয়া হয়। রেলওয়েতে কাজ করার সময় ৩ ফুট ৮ ইঞ্চি লম্বা একটা লোহার শাবল গেগের চোয়াল দিয়ে ঢুকে যায়, এবং মাথার উপর দিয়ে বের হয়। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, ডাক্তাররা সেই শাবলটি বের করতে সক্ষম হন, এবং গেগ আরো ১১ বছর বেঁচে থাকে, যদিও সে কখনোই সম্পূর্ণ স্বাভাবিক মানুষ হতে পারেনি।


১৩. আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের অন্যতম সেরা কীর্তি ভারতের প্রত্যন্ত গ্রামে জন্মগ্রহণ করা লক্ষীর সফল অস্ত্রপচার। চার হাত এবং চার পা নিয়ে জন্মগ্রহণ করা লক্ষীকে নামকরণ করা হয় চার হাত বিশিষ্ট দেবী লক্ষীর নামেই, এবং সব মানুষজন তাকে দেবী লক্ষীরই রূপ ভেবে পূজা করতে থাকে। কিন্তু ডাক্তাররা আবিষ্কার করেন, লক্ষী মূলত একটি জমজ শিশু, যাদের একজনের সম্পূর্ণ রূপান্তর হলেও অন্যজনের হয়নি, এবং সেই অপরজন লক্ষীর শরীরের সাথে fused অবস্থায় রয়েছে। ২৭ ঘন্টার একটানা অপারেশনের পর ডাক্তাররা লক্ষীর শরীর থেকে অতিরিক্ত কিডনি, লিভার, স্পাইনাল কর্ড এবং জননাঙ্গ আলাদা করতে সক্ষম হন। তার অবশিষ্ট নিজস্ব পাকস্থলী, কিডনী, জননাঙ্গ ডাক্তারদের আপ্রাণ চেষ্টায় নার্ভাস সিস্টেম এবং রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়ার সাথে কৃত্রিমভাবে যুক্ত করা সম্ভব হয়। এবং আশ্চর্যজনকভাবে, অপারেশনের মাত্র তিনমাস পরই লক্ষী সুস্থ হয়ে ওঠে, এমনকি ওয়াকারের সাহায্যে হাঁটাচলাও করতে পারে।


লেখক : অনিমেষ হৃদয়
1:19 PM Posted by Just for you 0

Friday, August 19, 2011

কুরআন ও আধুনিক বিজ্ঞান: শেখ আবদুর রহিম গ্রীন


কুরআন হচ্ছে শেষ ওহী এবং একটি প্রমাণ, যা শুধু চৌদ্দশত বৎসর আগের আরবদের জন্য নয়, আজকের বিজ্ঞানীদের জন্যও। যারা বিংশ শতাব্দীতে বাস করছে-যা খুব শীগগিরই একবিংশ শতাব্দী হয়ে যাবে, তাদের জন্য কুরআনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হয়তোবা এটা যে, আধুনিক বিজ্ঞানের অধিকাংশ আবিষ্কার ও কুরআন পরস্পর সঙ্গতিপূর্ণ, এবং কোন কোন ক্ষেত্রে আগের ধারণাকৃত বহু বিষয় গত বিশ বৎসরে আবিষ্কৃত হয়েছে। এ বিষয়ে অগ্রণী পশ্চিমা বিজ্ঞানীদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন মরিস বুকাইলী, যিনি গভীর অধ্যয়নের ফলস্বরূপ‘বাইবেল, কুরআন ও বিজ্ঞান’ নামক একটি বই লিখেছেন। এ বইয়ে তিনি প্রাকৃতিক ও বৈজ্ঞানিক বিষয়ে প্রাপ্ত বাইবেল ও কুরআনের বক্তব্য তুলনা করেছেন। বিচার-বিশ্লেষণের পরে তাঁর সিদ্ধান্ত হচ্ছে: 

“পূর্ববর্তী দুটি ঐশীবাণী অর্থাৎ তাওরাত ও ইঞ্জিলের পর কুরআন অবতীর্ণ হয়। কুরআনের বাণীসমূহ যে শুধুমাত্র স্ববিরোধিতা থেকেই মুক্ত তা নয়, বাইবেলের মত এতে মানুষের কোন হস্তক্ষেপের প্রমাণ নেই। কেউ যদি নিরপেক্ষভাবে এবং বৈজ্ঞানিক বিচার বিশ্লেষণের মাধ্যমে এর বক্তব্যসমূহ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখতে চায়, তাহলে দেখতে পাবে যে তা আধুনিক বৈজ্ঞানিক তথ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তদুপরি বিজ্ঞান সংশ্লিষ্ট বক্তব্য ও বাণী সেখানে রয়েছে। তারপরও এটা অচিন্তনীয় যে মুহাম্মাদের সময়ের একজন মানুষ এর রচয়িতা হতে পারে।
এতকাল যাবত যে সব আয়াতের বক্তব্য ব্যাখ্যা করা সম্ভব হচ্ছিল না, আধুনিক বৈজ্ঞানিক জ্ঞান আমাদেরকে সে সবের অর্থ বোঝার ব্যাপারে সাহায্য করেছে। একই বিষয়ে বাইবেল ও কুরআনের বক্তব্যের তুলনা করলে কিছু মৌলিক পার্থক্য ধরা পড়ে। বাইবেলের বর্ণনা যেখানে বৈজ্ঞানিকভাবে অগ্রহণযোগ্য, সেখানে কুরআনের বর্ণনা আধুনিক বিজ্ঞানের সাহায্যে প্রাপ্ত জ্ঞান ও তথ্যের আলোকে সঙ্গতিপূর্ণ। উদাহরণ হিসাবে সৃষ্টিতত্ত্ব মহাপ্লাবনের বিষয নেওয়া যেতে পারে। ইহুদীদের মিসর-ত্যাগের ঘটনার বর্ণনায় কুরআন বাইবেলের সম্পূরক। যেমন প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারে দেখা গেছে, মূসার আমলকে চিহ্নিত করা যায় এমন সব নিদর্শন কুরআন ও বাইবেলের বর্ণনার মিল প্রমাণ করছে। এছাড়া অন্য সব বিষয়ে এই দুই গ্রন্থের পার্থক্য বিরাট। যা আসলে এতদিন যাবত মুহাম্মাদ সম্পর্কে চলে আসা এই অভিযোগকেই খণ্ডন করছে যে তিনি কুরআন রচনা করেছেন বাইবেল থেকে নকল করে, কোন প্রমাণ দেওয়া ছাড়াই এসব অভিযোগ করা হতো।
মুহাম্মাদের আমলের জ্ঞানের উৎকর্ষতার আলোকে এটা ধারণাতীত যে কুরআনের বিজ্ঞান সম্পর্কিত বক্তব্য কোন মানুষের করা। সুতরাং এটা স্বীকার করে নেওয়া অত্যন্ত যথাযথ যে কুরআন শুধু অবতীর্ণ কিতাব নয়, বরং এর সঠিকত্বের নিশ্চয়তার জন্য এবং এতে বর্ণিত বৈজ্ঞানিক তথ্যের জন্য একে বিশেষ মর্যাদার স্থান দেওয়া উচিত, কারণ কুরআনের অধ্যয়ন ও পর্যালোচনা একথাই প্রমাণ করে যে এর কোন মানবিক ব্যাখ্যা অসম্ভব।”
আধুনিক বিজ্ঞান দ্বারা সমর্থিত কিছু বক্তব্য
  • ১। ভ্রূণসৃষ্টি ও এর বিকাশ সম্পর্কিত যথাযথ বর্ণনা:নবী মুহাম্মাদের সময়ে এ সম্পর্কে বিরাজমান তত্ত্বের ভিতরে এরিস্টটলের এই ধারণা অন্তর্ভুক্ত ছিলো যে একটি শিশু রক্তের জমাট বাঁধা অবস্থা থেকে সৃষ্ট, যেভাবে পনীর তৈরী হয়। আঠারশ শতাব্দীতে হার্টসিকার দাবী করেন যে তিনি আদি মাইক্রোস্কোপ-এর সাহায্যে স্পার্ম এর মধ্যে প্রাথমিকভাবে গঠিত মানুষ দেখতে পেয়েছেন। কুরআন এসব কিছুই বলছে না, বরং মানবের ভ্রূণাবস্থার বিকাশের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বর্ণনা দিচ্ছে:

    “আমি তো মানুষকে মাটির উপাদান থেকে সৃষ্টি করেছি, অতঃপর আমি তাকে শুক্রবিন্দুরূপে এক নিরাপদ আধারে স্থাপন করি, পরে আমি শুক্রবিন্দুকে পরিণত করি জমাট রক্তে, অতঃপর জমাট রক্তকে পরিণত করি পিণ্ডে এবং পিণ্ডকে পরিণত করি অস্থিপিঞ্জরে, অতঃপর অস্থিপিঞ্জরকে মাংস দ্বারা ঢেকে দিই, অবশেষে তাকে রূপ দান করি। সুনিপুণ স্রষ্টা আল্লাহ কত মহান! এরপর তোমরা অবশ্যই মৃত্যুবরণ করবে। অতঃপর কিয়ামতের দিন তোমাদের পুনরুত্থিত করা হবে।” (সূরা আল মু’মিনুন, ২৩, ১২-১৬)

    নবী (সঃ) আরো ব্যাখ্যা করেন যে “নুতফা” পুরুষের শুক্রাণু ও নারীর ডিম্বাণু উভয়টিকেই বোঝায়। “আলাকা” শব্দটির তিনটি অর্থ আছে আরবীতে: (১) আঁকড়ে থাকা বস্তু, (২) জমাট রক্তবিন্দু, (৩) জোঁকের মত বস্তু। তিনটি অর্থই বিকাশমান ভ্রূণের প্রথম ধাপকে সঠিকভাবে বর্ণনা করে। নিষিক্ত ডিম্বাণু এমন হয় যে তা জরায়ূর দেওয়াল আঁকড়ে ধরে রাখে। তারপর আকার ও আচরণের দিক থেকে সেটা জোঁকের সাদৃশ্য অবলম্বন করে। জোঁক এবং ভ্রূণ উভয়েই রক্ত শোষণ করে। এটা জমাট রক্তবিন্দুর মতও হয়ে থাকে। পরবর্তী স্তরে এটা চিবানো-বস্তুর মত হয় দেখতে, এটাও সঠিক। এটাও সত্যি যে পেশী ও মাংসের পূর্বে অস্থি তৈরী হয়। রাসূলের হাদীসে এসেছে:

    “যখন বিয়াল্লিশ দিন পার হয়, আল্লাহ একজন ফেরেশতা পাঠান যখন সে ভ্রূণকে আকার দান করে, এর কান, চোখ, চামড়া, মাংস এবং হাড় তৈরী করে। তারপর সে জানতে চায়, “হে রব, এটা কি পুরুষ অথবা নারী? এবং তোমাদের প্রভু স্থির করেন যা তিনি চান এবং তখন ফেরেশতারা তা লিখে নেয়।”
    এই যথাযথ তথ্য বর্ণিত দিকগুলির বিকাশের সঠিক সময় জানাচ্ছে এবং ভ্রূণের লিঙ্গ ঠিক বিয়াল্লিশ দিনের পূর্বে সুনিশ্চিত ভাবে জানা সম্ভব নয়। মাত্র কয়েক দশক পূর্বেও শক্তিশালী মাইক্রোস্কোপ আবিষ্কারের আগে এটা জানা সম্ভব ছিল না। শীর্ষস্থানীয় ভ্রূণতত্ত্ববিদগণের অন্যতম কিথ মুর, কানাডারটরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের এনাটমি বিভাগের প্রফেসর ও চেয়ারম্যান, কুরআনের এই সমস্ত বক্তব্য ও সহীহ হাদীসের বক্তব্য সম্পর্কে বলেন,

    “উনিশ শতক পর্যন্ত, মানবীয় বিকাশের ধাপগুলি সম্পর্কে কিছুই জানা ছিল না। উনিশ শতকের শেষ দিকে বর্ণমালার প্রতীকের উপর ভিত্তি করে মানব ভ্রূণের বিকাশের বিভিন্ন ধাপ চিহ্নিত করা হয়। বিশ শতকে সংখ্যার সাহায্যে এর ২৩টি ধাপ বর্ণনা করা হয়। এই সংখ্যার সাহায্যে চিহ্নিতকরণ পদ্ধতি অনুসরণ করা সহজ নয় এবং একটি ভালো পদ্ধতি হবে অঙ্গসংস্থান বিদ্যার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠা পদ্ধতি। সামপ্রতিককালে কুরআনের অধ্যয়নের ফলে ভ্রূণবিকাশের বিভিন্ন ধাপ চিহ্নিতকরণের আর একটি পদ্ধতি প্রকাশিত হয়েছে যা এর সহজবোধ্য আকৃতির পরিবর্তন ও নড়াচড়ার উপর ভিত্তি করে তৈরী। এখানে যেসব শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, তা আল্লাহ জিবরাইলের মাধ্যমে রাসূল (সঃ) কে জানিয়েছেন এবং তা কুরআনে লিপিবদ্ধ হয়েছে…. এটা আমার কাছে পরিষ্কার যে এসব বক্তব্য নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছ থেকে মুহাম্মাদ (সঃ) এঁর কাছে এসেছে কারণ এই জ্ঞানের প্রায় সবটুকুই অবিষ্কৃত হয়েছে এর বহু শতক পরে। এটা আমার কাছে প্রমাণ করছে যে মুহাম্মাদ নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল।”
    ফিলাডেলফিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এনাটমি বিভাগের প্রফেসর ও চেয়ারম্যান এবং ফিলাডেলফিয়ারটমাস জেফারসন বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্যানিয়েল বাও ইনস্টিটিউটের পরিচালক মার্শাল জনসন বলেন,

    “বিজ্ঞানী হিসাবে আমি সেসব বস্তু নিয়ে কাজ করি যা আমি নির্দিষ্টভাবে দেখতে পারি। আমি ভ্রূণতত্ত্ব এবং ডেভেলপমেন্টাল বায়োলজি বুঝতে পারি। আমি কুরআনে যে শব্দগুলি আমার কাছে অনুবাদ করে দেওয়া হয়েছে তা বুঝতে পারি। আমাকে যদি আমার আজকের জ্ঞান ও বর্ণনার যোগ্যতা সহকারে সেই যুগে স্থানান্তর করা হয়, আমি ব্যাপারগুলি যেভাবে বর্ণনা করা আছে সেভাবে বর্ণনা করতে পারব না। আমি এটা প্রত্যাখ্যানের কোন কারণ দেখি না যে মুহাম্মাদ এই তথ্য অন্য কোথাও থেকে পেয়েছেন, সুতরাং আমি এই ধারণার সাথেও সাংঘর্ষিক কিছু দেখতে পাই না যে তিনি যা বলেছেন তাতে ঐশী হস্তক্ষেপ রয়েছে।”
  • ২। মহাকাশবিজ্ঞান:

    “অবিশ্বাসীরা কি ভেবে দেখে না যে, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী ওতপ্রোতভাবে মিশে ছিল; অতঃপর আমি উভয়কে পৃথক করে দিলাম; এবং জীবন্ত সব কিছু পানি থেকে সৃষ্টি করলাম; তবুও কি তারা বিশ্বাস করবে না?” (সূরা আল আম্বিয়া, ২১:৩০)
    এই আয়াতটি বিশ্বের উৎপত্তির সাধারণ তত্ত্ব বর্ণনা করছে, যে সত্য আজ থেকে চল্লিশ বছর আগেও নিউক্লিয়ার পদার্থবিদ্যার সূচনার আগে আবিষ্কৃত হয়নি। এখানে যে পৃথক করার বলা হয়েছে তা বিজ্ঞানীদের কথিত “বিগ-ব্যাং” তত্ত্বের অনুরূপ। তাছাড়া, সমস্ত জীবিত প্রাণী প্রটোপ্লাজম দিয়ে তৈরী যার ৮০-৮৫% ভাগই পানি।

    “অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোনিবেশ করেন, যা ছিল ধূম্রপুঞ্জ বিশেষ। অনন্তর তিনি আকাশ ও পৃথিবীকে বললেন, ‘তোমরা উভয়ে আমার আদেশ পালনের জন্য ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায় প্রস্তুত হও।’ তারা বলল, ‘আমরা তো অনুগত থাকতে পস্তুত আছি।” (সূরা আল ফুসসিলাত, ৪১:১১)
    এখানে ধূম্রপুঞ্জ শব্দটি বিশ্বের আদিম অবস্থার সঠিক বর্ণনা দিচ্ছে, যা ছিল গরম গ্যাসের পিণ্ড যাতে বস্তুকণা দ্রুত ছোটাছুটি করছে, ধোঁয়ার মত। এ থেকে গ্রহ, নক্ষত্র ও পৃথিবী তৈরী হয়।

    “আমি আমার ক্ষমতাবলে আকাশ নির্মাণ করেছি এবং আমিই একে সমপ্রসারিত করছি।” (সূরা আয যারিয়াত, ৫১:৪৭)
    এটা একটা স্বীকৃত সত্য যে আমরা যে বিশ্বে বাস করছি তা সমপ্রসারণশীল। “আল্লাহই দিন এবং রাত তৈরী করেছেন, এবং চাঁদ ও সূর্য। প্রত্যেকেই নিজ নিজ গতিতে কক্ষপথে সাঁতার কাটছে/ঘুরছে।”
    নিজ গতিতে চলার জন্য যে আরবী শব্দ ব্যবহৃত হয় তা হচ্ছে সাবাহাহ্‌ (এই আয়াতে ইয়াসবিহুনা)। এটা এমন গতি নির্দেশ করছে যা বস্তুর নিজের। যদি এটা পানিতে ঘটত, তাহলে এটা হত সাঁতার কাটা; এটা সেই নড়াচড়া যা একজনের পায়ের মাধ্যমে হয়। মহাশূন্যে নড়াচড়ার সময় এটা হবে নিজের অক্ষের উপর ঘুরে যাওয়া। সূর্য নিজের কক্ষপথে পৃথিবীর চারপাশে নয়, বরং ছায়াপথের কেন্দ্রের চারপাশে ঘোরে, সুতরাং এখানে কোন বৈপরীত্য নেই, কারণ কুরআন সূর্যের কক্ষপথ নির্দিষ্ট করেনি।

    “তুমি কি দেখ না আল্লাহ রাতকে দিনে এবং দিনকে রাতে পরিবর্তন করেন?” (সূরা আল লুকমান, ৩১:২৯) “তিনি রাত্রি দ্বারা দিনকে আচ্ছাদিত করেন এবং রাত্রিকে আচ্ছাদিত করেন দিন দ্বারা।” (সূরা আয যুমার, ৩৯:৫)
    পেঁচানো বা জড়ানো আরবী শব্দ কাওওয়াররার অনুবাদ। এর মূল অর্থ হচ্ছে মাথার চারপাশে পাগড়ী পেঁচিয়ে বাঁধা। অবিরত পেঁচানোর পদ্ধতি-যাতে এক অংশ আরেক অংশের ভেতর ঢুকে যাচ্ছে, কুরআনে এমনভাবে বলা হয়েছে যে মনে হয় সে সময়ে পৃথিবীর গোলাকৃতি হওয়ার ধারণার সাথে মানুষ পরিচিত ছিল, যা স্পষ্টতঃই সত্য নয়।

    “তিনিই সূর্যকে তেজষ্কর ও চন্দ্রকে জ্যোতির্ময় করেছেন এবং তার তিথি নির্দিষ্ট করেছেন…” (সূরা ইউনুস, ১০:৫)
    কুরআনে সূর্যকে “সিরাজ” হিসাবে বলা হয়েছে যার অর্থ হচ্ছে “মশাল” যা নিজের তাপ ও আলো উৎপন্ন করে যেখানে চন্দ্রকে “নূর” বা আলো হিসাবে বলা হয়েছে যার অর্থ অন্য উৎস থেকে নেয়া আলোর আভা।
  • ৩। ভূতত্ত্ব:

    “আমি কি ভূমিকে বিছানা ও পর্বতকে কীলক সদৃশ করিনি?” (সূরা আন নাবা’, ৭৮:৬-৭)“আল্লাহই পৃথিবীতে পর্বতমালা স্থাপন করেছেন যাতে এ তোমাদের নিয়ে ঢলে না পড়ে।” (সূরা আল লুকমান, ৩১:১০)
    সম্প্রতি আবিষ্কৃত হয়েছে যে পর্বতমালার মূল ভূত্বকের ভিতরে চলে গেছে যা সাতটি টেকটোনিক প্লেট দিয়ে গঠিত। এই প্লেটগুলির নড়াচড়াই ভূমিকম্পের কারণ। এটা ধারণা করা হচ্ছে যে এই মূল ও পর্বতের ওজন ভূত্বকের স্থিতিশীলতার ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
  • ৪। প্রাণী ও উদ্ভিদ জগত: কুরআনের ষষ্ঠতম পারায় বলা আছে যে মধু সংগ্রহকারী মৌমাছি হচ্ছে স্ত্রী মৌমাছি; যদিও এটা সাধারণ ধারণা যে মৌমাছিরা সৈনিক এবং তারা রাজার অধীন। কুরআনে আরো বলা আছে যে উদ্ভিদের মাঝেও স্ত্রীপুরুষ রয়েছে এবং বায়ুর সাহায্যেও উদ্ভিদের প্রজনন ঘটে থাকে।

    “আমি বৃষ্টিগর্ভ বায়ু প্রেরণ করি।” (সূরা আল হিজর, ১৫:২২)
    এগুলি সবই সামপ্রতিককালে আবিষ্কৃত হয়েছে।
  • ৫। পরমাণু বিজ্ঞান: গ্রীক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস (৪৬০-৩৬১ খৃ.পূ.) এই তত্ত্বের উদ্‌গাতা যে বস্তু ছোট অবিভাজ্য কণা দিয়ে তৈরী, যার নাম এটম। আধুনিক বিজ্ঞান আবিষ্কার করেছে যে এটম আছে, তবে তা বিভাজ্য। কুরআন বলছে:

    “তিনি অদৃশ্য সম্বন্ধে সম্যক পরিজ্ঞাত, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে অণু-পরিমাণ কিছু কিংবা তদপেক্ষা ক্ষুদ্র অথবা বৃহৎ কিছু যাঁর অগোচর নয়।” (সূরা সাবা, ৩৪:৩)
  • ৬। ত্বক বিজ্ঞান:

    “মানুষ কি মনে করে যে আমি তার অস্থিসমূহ একত্রিত করতে পারব না? বস্তুত আমি তার অঙ্গুলির অগ্রভাগ পর্যন্ত পুনর্বিন্যস্ত করতে সক্ষম।” (সূরা আল ক্বিয়ামাহ, ৭৫:৩-৪)
    কোন দুটি আঙ্গুলের ছাপ একরকম নয়। [সংকলক - দুইটি মানুষের আঙ্গুলের ছাপ এক রকম না হওয়ায়, এই বৈশিষ্ট্যকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ভেরিফিকাশন নামে অন্যতম সিকিউরিটি অথেন্টিক্যাশেন মেথড হিসেবে বর্তমানে ব্যবহত হচ্ছে।] এই আয়াতে আমাদের পুনর্জীবিত করার আল্লাহর জ্ঞান ও ক্ষমতার কথা বলা হয়েছে যা সবচেয়ে একক ও স্বতন্ত্র অঙ্গ পর্যন্ত করা হবে।

    “যারা আমার আয়াতকে অবিশ্বাস করে তাদের আগুনে দগ্ধ করবই। যখনই তাদের চর্ম দগ্ধ হবে তখনই তার স্থলে নতুন চর্ম সৃষ্টি করব, যাতে তারা শাস্তি ভোগ করে। নিশ্চয় আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।” (সূরা আন নিসা, ৪:৫৬)
    যেসব স্নায়ুপ্রান্ত বেদনা বোধ করে তা চামড়ায় রয়েছে। যখন চামড়া মারাত্মকভাবে পুড়ে যায়, তখন স্নায়ুপ্রান্ত ধ্বংস হয়ে যায় ও বেদনা আর টের পাওয়া যায় না। জাহান্নামে আল্লাহ পুনরায় চামড়া সৃষ্টি করবেন যাতে তার অধিবাসীরা স্থায়ীভাবে তীব্র ব্যথা অনুভব করে।

    “নিশ্চয়ই যাক্কুম বৃক্ষ হবে পাপীর খাদ্য; গলিত তাম্রের মত তা উদরে ফুটতে থাকবে, ফুটন্ত পানির মত।’ ‘আস্বাদ গ্রহণ কর, তুমি তো ছিলে সম্মানিত, অভিজাত। তোমরা তো এ শাস্তি সম্পর্কে সন্দিহান ছিলে।’ (সূরা আদ দুখান, ৪৪:৪৩-৫০)
    “…এবং যাদের পান করতে দেওয়া হবে ফুটন্ত পানি যা তাদের নাড়িভুড়ি ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে।” (সূরা মুহাম্মাদ, ৪৭:১৫)
    অন্ত্রে তাপ বহনকারী ধারক থাকে না। এটা জানা আছে যে, যদি নাড়িভুঁড়ি কেটে যায় তাহলে এর ভিতরের উপাদানসমূহ উচ্চ সংবেদনশীল পেরিটোনিয়া ক্যাভিটিতে চলে যায়, যেখানে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভূত হয়। এটা বর্তমানের প্রচলিত জ্ঞান নয়, মুহাম্মাদের সময়ের তো নয়ই। সে যাই হোক, কুরআনের রচয়িতা এসব সত্যের সাথে সুপরিচিত!
  • ৭। পানি চক্র: কুরআনে সঠিকভাবে পানি চক্রের বর্ণনা দেওয়া আছে এবং ভূগর্ভের ঝরণার পানির উৎস হিসাবে বৃষ্টির পানিকে উল্লেখ করা হয়েছে। আমাদের কাছে এটা খুবই স্বাভাবিক প্রতীয়মান হলেও গ্রীক দার্শনিকগণ এটা মনে করতেন না, তাঁরা ভাবতেন মাটির তলার ঝর্ণাধারা তৈরী হত সমুদ্রের পানির ধারা গুহায় জমে গিয়ে, যা বিরাট পাতালের সমুদ্রে গহ্বরের মাধ্যমে সরবরাহ হতো। আসলে অষ্টাদশ শতকের পূর্বে পানি চক্র সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। অথচ কুরআন এদিকে বলছে,

    “তুমি কি দেখনা, আল্লাহ আকাশ থেকে বারিবর্ষণ করেন, অতঃপর ভূমিতে স্রোতরূপে প্রবাহিত করেন?” (সূরা আয যুমার, ৩৯:২১)
    সংক্ষিপ্ত রাখতে গিয়ে আমি শুধু কয়েকটি বক্তব্যের উল্লেখ করেছি এবং বিজ্ঞান বিষয়ক কুরআনের বক্তব্যের ও হাদীসের বর্ণনার সীমাবদ্ধ ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেছি। কানাডার ম্যানিটোবা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি অব মেডিসিন ও ডেন্টিস্ট্রির এনাটমি বিভাগের প্রফেসর ও চেয়ারম্যানটি.ভি.এন পারসাদ বলেছেন,

    “মুহাম্মাদ একজন সাধারণ লোক ছিলেন, তিনি পড়তে জানতেন না, লিখতে পারতেন না, আসলে তিনি নিরক্ষর ছিলেন…আমরা যে বিষয়ে আলোচনা করছি তা হল যে চৌদ্দশত বছর পূর্বে কিছু নিরক্ষর লোক গভীর কিছু উচ্চারণ করেছিল ও বক্তব্য দিয়েছিল যা বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক। আমি ব্যক্তিগতভাবে বুঝতে পারি না এটা হঠাৎ ঘটে যাওয়া ঘটনা কিভাবে হতে পারে, এতে অসংখ্য অত্যন্ত সঠিক ব্যাপার রয়েছে… আমার মনে কোন সংশয় নেই এই সত্য স্বীকার করতে যে কোন ঐশী প্রেরণা বা ওহী তাঁকে এই বক্তব্যগুলি দিতে নির্দেশ দিয়েছে। আমরা যেন ড. মরিস বুকাইলির কথাগুলি ভুলে না যাই যে এই সত্যগুলো “মানবীয়ভাবে ব্যাখ্যার ব্যাপারে একটি চ্যালেঞ্জ।”
    এবং প্রফেসর পারসাদ এর বিবৃতি যে এটা হঠাৎ ঘটে যেতে পারে না, এখানে অসংখ্য সঠিক তথ্য রয়েছে! মুহাম্মাদের জন্য অনুমান করা এবং প্রতিটি সঠিক হওয়ার সম্ভাব্যতা আসলেই বিস্ময়কর। এ সমস্ত বিজ্ঞানীরা, যাঁরা স্ব স্ব ক্ষেত্রে সুপরিচিত, সেই আরবদের মত যারা তাদের ভাষা পাণ্ডিত্য সহকারে আয়ত্ব করেছিল মুহাম্মাদের সময়ে, স্পষ্ট প্রমাণ চিনতে পারেন এবং কুরআনের প্রকৃতির অলৌকিকত্ব অনুধাবন করতে পারেন। “আমরা তাদেরকে আমাদের নিদর্শন দেখাবো দূর দিগন্তে এবং তাদের মধ্যে যতক্ষণ না তারা জানতে পারে যে এটাই সত্য।”
কুরআন বাহ্যিক বাস্তবতার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ এবং আভ্যন্তরীণের সাথেও সঙ্গতিপূর্ণ। অসঙ্গতি ও বৈপরীত্য রয়েছে আসলে মানুষের কাজের প্রকৃতিতে, তা তারা বিজ্ঞানী, দার্শনিক, সাধু অথবা সূফী যাই হোক না কেন। এটা ঐশী ওহীর জন্য সত্য হতে পারে না, যেমন কুরআন বলছে, “তারা কি সতর্কতার সাথে কুরআন নিয়ে চিন্তাভাবনা করে না, যদি এটা আল্লাহ ছাড়া আর কারো কাছ থেকে হতো, তারা এতে বহু অসামঞ্জস্য খুঁজে পেতো।
12:01 AM Posted by Just for you 2