TOP NEWS

Showing posts with label ইসলামি দা’ওয়াহ্‌র. Show all posts

Tuesday, December 24, 2013

যাদের জন্য মালাইকা (ফেরেশতাগণ) আল্লাহর নিকট দো’আ করেন


যাদের জন্য ফেরেশতাগণ কল্যাণের, সাহায্য ও নিরাপত্তা চেয়ে আল্লাহর নিকট দো’আ করেন তারা অনেক। এদের অন্যতম হলোঃ
* মুহাম্মাদ (সা)
* নবী (সা) এর উপর দুরূদ পাঠকারী
* অযু অবস্থায় ঘুমন্ত ব্যক্তি
* সালাতের অপেক্ষাকারী মুসল্লি
* প্রথম কাতারের মুসল্লি
* সালাতের লাইনের ডান পাশের মুসল্লিদের জন্য
* কাতারে পরস্পর মিলিতভাবে দাঁড়ানো মুসল্লিদের জন্য
* ইমামের এর সূরা ফাতিহা শেষ করার পর আমীন পাঠাকারীবৃন্দের জন্য
* সালাত সমাপ্তির পর অজুসহ স্ব-স্থানে অবস্থানকারীর জন্য
* জামাতের সাথে ফজর ও আসর সালাত আদায়কারীর জন্য
* কুর’আন খতমকারীর জন্য
* মুসলম ভাইয়ের কল্যাণের জন্য দু’আকারীর জন্য
* কল্যাণের পথে ব্যায়কারীর জন্য
* সেহেরী ভক্ষণকারীদের জন্য
* রোগী প্রদর্শনকারীর জন্য
* সৎ কাজের শিক্ষা প্রদানকারীর জন্য
* মু’মিন ও মু’মিনদের আত্মীয় ও তাওবাকারীদের জন্য
আসুন! আমরা বিস্তারিত জেনে নেই।
মুহাম্মাদ (সাঃ) এর জন্যে
আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সাঃ) এ সম্পর্কে আল্লাহ্* তা‘য়লা বলেনঃ
“নিশ্চই আল্লাহ্* নাবীর প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং তার ফেরেশতারাও নাবীর জন্য অনুগ্রহ প্রার্থনা করেন। হে মু‘মিনগণ তোমরাও নাবীর জন্য অনুগ্রহ প্রার্থনা কর এবং তাকে যথাযথভাবে সালাম জানাও”।
(সূরা আহযাবঃ ৫৬)
নাবী (সাঃ)-এর উপর দরূদ পাঠকারীর জন্য
এর প্রমান হলো ইমাম আহমদ (রহ.)-এর বর্ণিত নিম্ন হাদীস।
আব্দুল্লাহ বিন উমার (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি রাসুল (সাঃ)-এর উপর একবার দরূদ পাঠ করবে আল্লাহ্* তা‘আলা তার উপর সত্তর বার দয়া করেন ও তার ফেরেশতারা তার জন্য সত্তর বার ক্ষমা প্রার্থনা করবে। অতএব, বান্দারা অল্প দরূদ পাঠ করুক বা অধীক দরূদ পাঠ করুক। (আল-মুসনাদ, হাদীস – ৬৬০৫,৬৩১৭)
অযু অবস্থায় ঘুমন্ত ব্যক্তির জন্য
এর প্রমানে হাদীসে এসেছে,
ইবনে উমার থকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল (সাঃ) বলেছেন, তোমাদের এই শরীর সমূহকে পবিত্র রাখ। আল্লাহ্* তোমাদেরকে পবিত্র করবেন। যে ব্যক্তি পবিত্রাবস্থায় (অযু অবস্থায়) রাত অতিবাহিত করবে, অবশ্যই একজন ফেরেশতা তার সঙ্গে রাত অতিবাহিত করবে। রাতে যখনই সে পার্শ্ব পরিবর্তন করে তখনই সে ফেরেশতা বলে, হে আল্লাহ্* আপনার এই বান্দাকে ক্ষমা করুন। কেননা সে পবিত্রাবস্থায় (অযু অবস্থায়) ঘুমিয়েছে। (আত-তারগীব ওয়াত তাহরীব)
হাফেজ ইবনে হাযার আসকালানী বলেন, হাদীসের মান জাইরিদ বা ছহীহ হাদীসের অন্তর্ভুক্ত।
অন্য বর্ণনায় এসেছে অযু অবস্থায় ঘুমন্ত ব্যক্তি জাগ্রত হলেও ফেরেশতা তার জন্য দু‘আ করেন। রাসুল (সাঃ) বলেন,
যে ব্যক্তি পবিত্রাবস্থায় (অযু অবস্থায়) ঘুমায় তার সঙ্গে একজন ফেরেশতা নিয়োজিত থাকে, সে ঘুম থেকে জাগ্রত হলে ফেরেশতা বলেন, হে আল্লাহ্*! তোমার অমুক বান্দাকে ক্ষমা করে দাও, কেননা, সে পবিত্রাবস্থায় ঘুমিয়েছে। (ইবনে হিব্বান)
শায়খ নাসিরুদ্দীন আলবানী বলেন, হাদীসটি সহীহ।
ছালাতের অপেক্ষাকারী মুছল্লীবৃন্দের জন্য
হাদীসে এসেছেঃ
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল (সাঃ) বলেছেন, তোমাদের মাঝে কোন ব্যক্তি যখন অযু অবস্থায় ছালাতের অপেক্ষায় বসে থাকে, তার জন্য ফেরেশতা মন্ডলী দু‘আ করে থাকেন, হে আল্লাহ্*! তুমি তাকে ক্ষমা কর, হে আল্লাহ! তুমি তার উপর কল্যাণ দান কর। (মুসলিম)
প্রথম কাতারের মুছল্লীবৃন্দের জন্য
নিম্নে একটি হাদীস প্রদত্ত হলঃ
রাসুল (সাঃ) বলতেনঃ প্রথম কাতারের মুছল্লীদের উপর নিশ্চই আল্লাহ্* ক্ষমা করবেন ও ফেরেশতা মন্ডলী তাদেরজন্য দু‘আ করবেন। (ইবনে হিব্বান)
আল্লামা শায়খ শুয়াইব আরনাউত হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।
সালাতের লাইনের ডান পার্শ্বের মুসল্লীবৃন্দের জন্য
রাসুল (সাঃ) বলেন,
নিশ্চই আল্লাহ্* দয়া করেন ও ফেরেশতামন্ডলী দু‘আ করেন ডান পার্শ্বের দাঁড়ানো ব্যক্তিদের উপর। (ইবনে হিব্বান)
হাদীসটি হাসান।
কাতারে পরস্পর মিলিতভাবে দাঁড়ানো মুছলীবৃন্দের জন্য
রাসুল (সাঃ) বলেন,
নিশ্চই আল্লাহ্* দয়া করেন এবং ফেরেশতামন্ডলী দু‘আ করে, যারা পরস্পর একে অপরের সাথে লাইন মিলিয়ে সালাত আদায় করে। (ইবনে হিব্বান)
শায়খ নাসিরুদ্দীন আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।
এই কারণে সাহাবাগণ জামাতে সালাত আদায়কালীন পরস্পর মিলিত হয়ে দাঁড়ানোতে গুরুত্ব দিতেন।
বিশিষ্ট সাহাবী আনাস (রাঃ) বলেন, আমাদের সবাই সালাতে একে অপরের কাঁধের সাথে কাঁধ এবং পায়ের সাথে পা মিলাতাম। (বুখারী)
রাসুল (সাঃ) সালাত আরম্ভের পূর্বে মুছল্লীদের দিকে তাকিয়ে বলতেনঃ
তোমরা তোমাদের কাতার সোজা কর তিনবার বলতেন। আল্লাহর শপথ! তোমাদের কাতারকে সোজা কর, অন্যথায় আল্লাহ্* তোমাদের অন্তরের মাঝে বক্রতা সৃষ্টি করবেন। বর্ণনাকারী কাতার সোজা করার নিয়মাবলী এভাবে বর্ণনা করেন। আমি দেখেছি ব্যক্তি তার নিজের কাঁধ অপরের কাঁধের সাথে, হাটু অপরের হাটুর সাথে এবং পা অপরের পায়ের সাথে মিলিয়ে দাঁড়াতেন। (বুখারী)
ইমাম এর সূরা ফাতিহা শেষ করার পর আমীন পাঠকারীবৃন্দের জন্য
এ মর্মে রাসুল (সাঃ) বলেন,
যখন ইমাম বলবে, ( غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ),তখন তোমরা আমীন বল। কেননা, যার আমীন বলা ফেরেশতাদের আমীন বলার সাথে মিলে যাবে, তাঁর অতীত জীবনের গোনাহগুলীকে ক্ষমা করে দেয়া হবে। (আল জামি, মুহাম্মাদ বিন ইসমাঈল)
উপরোক্ত হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় ইমাম সূরা ফাতিহা সমাপ্ত করার পর ফেরেশতা সমবেতারা মুসল্লীদের জন্য আমীন বলে আল্লাহর সমীপে সুপারিশ করে থাকেন, যার অর্থ হলঃ হে আল্লাহ্* আপনি ইমাম ও মুছল্লীদের সূরা ফাতিহায় বর্ণিত দু’আ সমূহ কবুল করুন। কারণ, আমীন অর্থ হলো আপনি কবুল করুন। (ফাতহুল বারী)
সালাত সমাপ্তীর পর অযুসহ স্ব স্থানে অবস্থানকারী বৃন্দের জন্যে
এ প্রসঙ্গে রাসুল (সাঃ) বলেন,
তোমাদের মধ্যে যারা সালাতের পর স্বস্থানে বসে থাকে, তাদের জন্য ফেরেশতা দু’আ করতে থাকেন যতক্ষণ পর্যন্ত তাঁর অযু ভঙ্গ না হবে, (দু’আটি হল এইঃ) হে আল্লাহ্*! আপনি তাদেরকে ক্ষমা করে দিন এবং হে আল্লাহ্*! আপনি তাদের উপর দয়া করুন। (মুসনাদে আহমাদ)
শায়খ আহমদ শাকির হাদীসটি সহীহ বলেছেন।
জামাতের সাথে ফজর ও আসর সালাত আদায়কারীর জন্য
হাদীসে এসেছে,
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল (সাঃ) বলেছেন, রাতের ও দিনের ফেরেশতারা ফজর ও আসর সালাতে একত্রিত হয়। ফজর সালাতে রাতের ফেরাশতারা উপরে উঠে যায়, এবং দিনের ফেরেশতারা মানুষের নিকট থেকে যায় এবং আসর সালাতে একত্রিত হয়ে দিনের ফেরেশতারা চলে যায় এবং রাতের ফেরেশতারা থেকে যায়। তাদেরকে আল্লাহ তায়লা জিজ্ঞেস করেন, তোমরা আমার বান্দাদেরকে কোন অবস্থায় ছেড়ে এসেছ? ফেরেশতারা উত্তরে বলেন, আমরা যখন তাদের নিকট উপস্থিত হয়েছিলাম, তখন তাদেরকে সালাতরত অবস্থায় পেয়েছিলাম এবং যখন আমরা তাদের ছেড়ে এসেছি তখনও তাদেরকে সালাতের অবস্থায় ছেড়ে এসেছি। অতঃএব আপনি তাদেরকে কিয়ামত দিবসে ক্ষমা করুন। (মুসনাদে আহমাদ)
হাদীসটি সহীহ।
শায়খ আহমদ বিন আব্দুর রহমান আল-বান্না ফেরশতাদের দু’আর ব্যাখ্যায় বলেনঃ এমন ব্যক্তির জন্য ফেরেশতারা কিয়ামত দিবসে আল্লাহ্* তা’আলার সমীপে ক্ষমা প্রার্থনা করবে।
আল-কুরআন খতমকারীর জন্য
ইমাম দামিরী (রহ.) সা’আদ (রা.) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেনঃ
কুরআন খতম যদি রাত্রির প্রথম ভাগে হয় তবে সকাল পর্যন্ত ফেরেশতারা খতমকারীর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে থাকে আর রাত্রির শেষ ভাগে হলে সকাল পর্যন্ত ফেরেশতারা তাঁর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে থাকে। অনেক সময় আমাদের মাঝে অল্প কিছু বাকি থাকত তা আমরা সকাল বা সন্ধ্যা পর্যন্ত বিলম্ব করতাম। (সুনানি দামিরী)
হাদীসটি যঈফ। কিন্তু একাধিক সানাদে বর্ণিত হওয়ায় মুহাদ্দিসগন হাসান বলেছেন।
বিশিষ্ট তাবেয়ী আবদাহ বলেন,
যখন কোন ব্যক্তি দিনের বেলায় কুরআন খতম করে, ফেরেশতারা সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁর জন্য দু’আ করতে থাকে এবং যদি রাত্রে খতম করে তবে ফেরেশতারা সকাল পর্যন্ত ক্ষমা প্রার্থনা করে থাকে। হুসাইন সিলীম আসাদ বলেন, এটি ছহীহ। (সুনানি দামিরী)
মুসলিম ভাইয়ের কল্যাণের জন্য দু‘আকারীদের জন্য
এ প্রসঙ্গে ইমাম মুসলিম (রহ.) হাদীস সংকলন করেছেন। নিচে তা উল্লেখ করা হলঃ
সাফওয়ান (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি আব্দুল্লাহ বিন সাফওয়ানের ছেলে ও দারদার স্বামী ছিলেনঃ তিনি বলেন, আমি শামে গেলাম। তারপর আমি আবু দারদার ঘরে উপস্থিত হলাম; কিন্তু আমি তাকে ঘরে পেলাম না, উম্মুদ দারদা (রহ.)-এর সাথে সাক্ষাৎ হলো, তিনি বললেন, এ বছর তোমার কি হাজ্জ করার ইচ্ছা আছে? আমি বললাম, হ্যাঁ,। তিনি বললেন, আমাদের মঙ্গলের জন্য দু’আ করবেন। কেননা, নাবী (সা.) এরশাদ করেছেন, কোন মুসলিম তাঁর অনুপস্থিত ভাইয়ের জন্য দু’আ করলে তা কবুল করা হয় এবং তাঁর মাথার কাছে একজন ফেরেশতা নিযুক্ত থাকেন, যখনই সে ব্যক্তি তাঁর ভাইয়ের জন্য মঙ্গলের দু’আ করে তখন সে নিযুক্ত ফেরেশতা বলে, আমীন অর্থাৎ হে আল্লাহ্* কবুল করুন এবং তোমার জন্য অনুরূপ। (অর্থাৎ তোমার ভাইয়ের জন্য যা চাইলে, আল্লাহ্* তোমাকেও তাই দান করুন)। (মুসলিম, আহমাদ)
ফেরশতাদের দু’আ পাওয়ার প্রত্যাশায় অতীত যামানার মনীষীগণ অপর মুসলিম ভাইয়ের জন্য দু’আ করাতে অনেক গুরুত্ব দিতেন এবং আল্লাহ্* তা’আলার অনুগ্রহে বর্তমানেও দিচ্ছেন।
কাজী ইয়াজ (রহ.) বলেনঃ সালফে সালেহীনগণ যখন নিজের জন্য দু’আ করার ইচ্ছা পোষণ করতেন তখন তারা অনুপস্থিত মুসলিম ভাইয়ের জন্য দু’আ করতেন। কেননা, এমন দু’আ কবুল হয়ে যায় এবং ফেরেস্তামন্ডলী দু’আকারীর জন্য ঐ দু’আই করে থাকেন।
হাফেজ যাহাবী (রহ.) উম্মুদ দারদা (রহ,)-এর উদ্ধৃতি দিয়ে বর্ণনা করেন যে, আবু দারদা (রা.)-এর তিনশত ষাটজন বন্ধু ছিল, ছালাতে তাদের জন্য দু’আ করতেন। এ সম্পর্কে তার স্ত্রী তাকে জিজ্ঞাসা করলে তদুত্তরে তিনি বলেন, আমি চাইব না যে, ফেরেশতারা আমার জন্য দু’আ করুক? কুরআন মাজীদ সেই সকল মু‘মিনদের প্রশংসা করেছে যারা অতীত মু‘মিনদের জন্য দু’আ করেন।
আল্লাহ্* তা’আলা বলেন,
যারা তাদের পরে আগমন করেছে, তারা বলে যে, হে আমাদের রব! আমাদেরকে এবং ঈমানে অগ্রনী আমাদের ভাইদেরকে ক্ষমা করুন এবং ঈমানদারদের বিরুদ্ধে আমাদের অন্তরে কোন বিদ্বেষ রাখবেন না। হে আমাদের রব! আপনি দয়ালু ও পরম করুণাময়। (সূরা হাশরঃ ১০)
শায়খ মুহাম্মাদ আল্লান সিদ্দীকি (রহ.) এ আয়াত সম্পর্কে লিখেছেনঃ আল্লাহ্* তা’আলা অনুপস্থিত মুসলিম ভাইয়ের জন্য দু’আ করার জন্য তাদের প্রশংসা করেছেন।
কল্যাণের পথে ব্যয়কারীদের জন্য
নিম্নে হাদীস সমূহ তার উজ্জ্বল প্রমাণ। ইমাম বুখারী (রহ.) ও ইমাম মুসলিম (রহ.) বর্ণনা করেন।
আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, প্রতিদিন সকালে দু’জন ফেরেশতা অবতরন করেন, একজন বলেন, হে আল্লাহ্*! দানকারীর সম্পদ বাড়িয়ে দাও, অপরজন বলেন, হে আল্লাহ্*! যে দান করে না তার সম্পদকে বিনাশ করে দাও। (বুখারী)
এই হাদীসে নাবী (সা.) তাঁর উম্মাতকে এ সংবাদ প্রদান করেছেন যে, ভাল পথে ব্যয়কারীর জন্য ফেরেশতারা দু’আ করেন, আল্লাহ্* তাদের খরচকৃত সম্পদের প্রতিদান দান করুন।
আল্লামা আয়নী (রহ.) এ হাদীসের ব্যাখ্যায় লিখেছেনঃ ফেরেশতাদের দু’আর অর্থ হলো, সৎ পথে ব্যয় করার দরুন যে সম্পদ তোমাদের হাত ছাড়া হলো আল্লাহ্* তা’আলা তাঁর বিনিময় দান করবেন।
মোল্লা আলী কারী (রহ.) এ হাদীসের ব্যাখ্যায় লিখেছেনঃ ফেরেশতাদের দু’আয় যে শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে এর অর্থ হলো মহাপুরুস্কার।
হাফেজ ইবনে হাজার (রহ.) এর হাদীসের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি চমৎকার কথা বলেছেন, ফেরেশতাদের দু’আয় সৎপথে ব্যয় করার পুরুস্কার নির্দিষ্ট নয় কেননা, এর তাৎপর্য হলোঃ যাতে করে এতে সম্পদ, সাওয়াব ও অন্যান্য জিনিসও শামিল হয়। সৎপথে ব্যায়কারীদের অনেকেই উক্ত সম্পদ ব্যয়ের প্রতিদান পাওয়ার পূর্বেই ইন্তিকাল করেন এবং প্রতিদান নেকীর আকারে পরকালে অবধারিত হয় অথবা উক্ত খরচের বিনিময় বিপদ থেকে উদ্ধার পেয়ে যাওয়ার মাধ্যমে হয়ে থাকে। (ফাতহুল বারী)
ইমাম আহমেদ বিন হাম্মাল, ইমাম ইবনু হিব্বান ও ইমাম হাকিম (রহ.) বর্ণনা করেছেন।
আবু দারদা (রা.) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, প্রতি দিন সূর্য উদয়ের সময় তার দুই পার্শ্বে দুই ফেরেশতাকে প্রেরণ করা হয়, তারা বলতে থাকে, হে লোক সকল! তোমরা তোমাদের রবের দিকে অগ্রসর হও। পরিতৃপ্তকারী অল্প সম্পদ, উদাসীনকারীর অধিক সম্পদ হতে উত্তম। তাদের কথা মানুষ ও জীন ব্যতীত সবাই শুনতে পায়। অনুরূপ সূর্য ডুবার সময় তার পার্শ্বে দুই ফেরেশতা প্রেরণ করা হয়, তারা বলতে থাকে, হে আল্লাহ্*! দানকারীর সম্পদ বৃদ্ধি করে দাও এবং যারা দান করে না তাদের সম্পদকে ধ্বংস করে দাও। তাদের কথা মানুষ ও জীন ব্যতীত সবাই শুনতে পায়। (আল মুসনাদ, ইবনে হিব্বান)
ইমাম আহমদ ও ইমাম ইবনে হিব্বান (রহ.) এভাবে সংকলন করেছেন।
আবু হুরাইরা (রা.) হতে বর্ণনা করেন, তিনি রাসুল (সা.) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, জান্নাতের দরজার পার্শ্বে ফেরেশতা বলেনঃ যে ব্যক্তি আজ ঋণ (আল্লাহ্*র রাস্তায় দান করবে) দিবে, তার প্রতিদান পাবে আগামীকাল (কিয়ামত দিবসে)।আর অন্য দরজায় এক ফেরেশতা দাঁড়িয়ে বলেনঃ হে আল্লাহ্*! দানকারীর সম্পদ বৃদ্ধি করে দাও এবং যারা দান করে না তাদের সম্পদকে ধ্বংস করে দাও। (আল মুসনাদ, ইবনে হিব্বান)
সাহরী ভক্ষণকারীদের জন্য
এর প্রমাণ স্বরূপ নিম্নে একটি হাদীস উল্লেখ করা হলঃ
আবু সাঈদ খুদরী (রা.) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, সাহরী খাওয়াতে বারাকাত (বরকত) রয়েছে, সাহরী কখনো ছাড়বে না যদিও এক ঢোক পানি পান করেও হয়। কেননা, নিশ্চই আল্লাহ্* তা’আলা সাহরী গ্রহণকারীদের উপর দয়া করেন এবং তাদের জন্য ফেরেশতারা ক্ষমা প্রার্থনা করে থাকে। (ইবনে হিব্বান)
রোগী পরিদর্শনকারীর জন্য ফেরেশতাদের ক্ষমা প্রার্থনা
এ মর্মে দলীল হলঃ
আলী (রা.) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি রাসুল (সা.) কে বলতে শুনেছিঃ যে কোন মুসলিম তার অপর মুসলমান রোগী ভাইকে দেখতে যায়, আল্লাহ্* তা’আলা তার জন্য সত্তর হাজার ফেরেশতা প্রেরণ করেন, তারা দিনের যে সময় সে দেখতে যায় সে সময় থেকে দিনের শেষ পর্যন্ত তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে এবং সে রাতের যে সময় দেখতে যায় সে সময় থেকে রাতের শেষ পর্যন্ত তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে। (আল মুসনাদ, ইবনে হিব্বান)
শায়খ আলবানী (রাহঃ) হাদীসটি সহীহ বলেছেন।
অন্য একটি বর্ণনাতে রোগীদের পরিদর্শনকারীর জন্য ফেরেশতাদের দরূদ এর অর্থ বর্ণনা করা হয়েছে, এবং এও বলা হয়েছে যে, তাদের জন্য জান্নাতে একটি বাগান তৈরি করা হয়। হাদীসে এসেছে,
আলী (রা.) হতে বর্ণনা করেন, যে ব্যক্তি সকাল বেলা কোন রোগীকে দেখতে গেল তার সাথে সত্তর হাজার ফেরেশতা যায় এবং তারা সবাই সন্ধ্যা পর্যন্ত তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে এবং তার জন্য জান্নাতে একটি বাগান নির্ধারণ করা হয়। আর যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় কোন রোগীকে দেখতে গেল, তার সাথে সত্তর হাজার ফেরেশতা যায় এবং তারা সবাই সকাল পর্যন্ত তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে এবং তার জন্য জান্নাতে একটি বাগান নির্ধারণ করা হয়।
(আল মুসনাদ)
রোগী দেখতে যাওয়ার সওয়াব সম্পর্কে রাসুল (সা.) তার উম্মাতের জন্য অনেক হাদীস বর্ণনা করেছেন, যা হতে কয়েকটি হাদীস নিম্নে উল্লেখ করা হলঃ
জাবের বিন আব্দুল্লাহ (রা.) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি রোগী দেখতে গেল, সে ফিরে আসা পর্যন্ত আল্লাহর রাহমতে আচ্ছন্ন থাকল এবং যখন সে রোগীর কাছে বসে তখন সে রাহমতের ভিতরে ডুবে থাকে। (আলো মুসনাদ, ইবনে হিব্বান)
শায়খ আলবানী হাদীসটির অধিক শাহেদের জন্য সহীহ বলেছেন। মোল্লা আলী কারী এ হাদীসটির ব্যাখ্যায় বলেন, রোগী দেখার নিয়্যাত নিজ বাড়ী থেকে বের হওয়ার সাথে সাথেই আল্লাহর রাহমতে প্রবেশ করে থাকে।
যখন সে রোগীর কাছে বসে, তখন সে আল্লাহর রাহমতে ডুবে যায়। রোগী দর্শনের জন্য যাওয়ার সময়ই শুধু রহমতে আচ্ছন্ন হয় না বরং বাড়ীতে ফেরার সময়ও তাকে আল্লাহর রহমত দ্বারা আচ্ছন্ন করেন। উপরোল্লেখিত হাদীসের শব্দ বাড়ী ফেরা পর্যন্ত আল্লাহর রাহমতে প্রবেশ করে তা প্রমাণ করে। পক্ষান্তরে রোগীর দেখাশুনা না করলে শাস্তি পেতে হবে। এ মর্মে হাদীসে বর্ণিত হয়েছে,
আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, “কিয়ামত দিবসে আল্লাহ্* তা’আলা বলেন, হে আদম সন্তান! আমি রোগে আক্রান্ত ছিলাম, তুমি আমার দর্শন সেবা করোনি। সে বলবে, হে আমার রব! আপনি সারা বিশ্বের রব, আমি আপনার কেমনে সেবা করব? তিনি বললেন, তুমি কি জাননা, আমার অমুক বান্দা রোগাক্রান্ত ছিল? তুমি যদি তাকে দেখতে যেতে সেখানেই আমাকে পেতে।” (মুসলিম)
ইমাম নববী (রহ.) আল্লাহ্* তা’আলার এরশাদঃ সেখানে আমার সওয়াব ও সম্মান পেতে। (মুসলিম, শারহে নববী)
আল্লামা মোল্লা আলী কারী (রা.) আল্লাহ্* তা’আলার বাণীর ব্যাখ্যায় বলেনঃ সেখানে আমার সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারতে।
রোগী ও মৃত ব্যক্তির পক্ষে ও বিপক্ষে মন্তব্যের উপর ফেরেশতাদের আমীন বলা
নিম্ন হাদীসটি এর উজ্জ্বল প্রমাণ।
উম্মে সালমা (রা.) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন রাসুল (সা.) বলেছেন, “তোমরা যখন কোন রোগী বা মৃত ব্যক্তির নিকট উপস্থিত হবে, তখন ভাল দু’আ করবে, কেননা, ফেরেশতারা তা কবুল হওয়ার জন্য আমীন বলে থাকেন। (ইবনে মাজা)
হাদীসে উল্লেখিত শব্দের দু’টি অর্থ হতে পারেঃ (ক) মুমূর্ষ ব্যক্তি (খ) মৃত ব্যক্তি।
রোগীর নিকটে গেলে আল্লাহ্* তা’আলার সমীপে তার জন্য রোগ মুক্তির দু’আ করো এবং মৃত ব্যক্তির নিকট গেলে তার ক্ষমার জন্য আল্লাহর নিকট দু’আ করবে। অনুরূপ যে জায়গায় যাও নিজের জন্য ভাল কথাই বলবে। (মিরকাতুল মাফাতিহ)
ইমাম নববী (রহ.) বলেন, এই হাদীসে উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে যে এ ধরনের স্থানে যেন উত্তম কথা বলা হয়। আল্লাহ তা’আলার নিকট রোগী বা মৃত্যর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা হয় এবং তার প্রতি যেন মেহেরবানী, সহজ ও নরম ব্যবহার করা হয়। এ উদ্দেশ্যে দু’আ করা হয়ও তা কবুল হওয়ার জন্য ফেরেশতারা আমীন বলে থাকে। (শরহে নববী)
যেহেতু এ হাদীসে রোগী ও মৃত ব্যক্তি সম্পর্কে ভাল উক্তিকারীর উক্তিকে কবুল হওয়ার জন্য আমীন বলার সুসংবাদ রয়েছে। অতএব, এমন স্থানে খারাপ উক্তি প্রকাশ ব্যাপারেও বিপদের আশংখা রয়েছে। কেননা, তাও কবুল হওয়ার জন্য ফেরেশতারা আমীন বলে থাকে। উল্লেখ্য জানাযার সময় ইমাম কর্তৃক বলা ইনি কি ভাল ছিলেন? আপনারা বলুনঃ হ্যাঁ তিনি ভাল ছিলেন। এরকম বলা নিশ্চিত বিদআত।
সৎকাজের শিক্ষা প্রদানকারীর জন্য
এরশাদ হচ্ছে,
আবু উমাম বাহেলী (রা.) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসুল (সা.)-এর সামনে দু’ই ব্যক্তি সম্পর্কে বর্ণনা দেয়া হলোঃ যাদের একজন আলেম, অপরজন আবেদ (ইবাদতকারী)।রাসুল (সা.) বলেন, “আবেদের তুলনায় আলেমের মর্যাদা হলোঃ যেমন তোমাদের সর্বনিম্ন লোকের তুলনায় আমার মর্যাদা।” (তিরমিযী)
তারপর রাসুল (সা.) বললেন,
নিশ্চই মানুষকে ভাল কথা প্রদানকারীর প্রতি আল্লাহ্* তা’আলা দয়া করে থাকেন এবং ফেরেশতারা, আসমান ও জমীনের অধিবাসীরা এমন কি গর্তের পিপিলিকা ও পানির মৎস্যও তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে থাকে। (তিরমিযী)
হাদীসে মানুষকে উত্তম কথা শিক্ষা দেওয়ার অর্থ সম্পর্কে মোল্লা আলী কারী (রা.) বর্ণনা করেছেনঃ শিক্ষা বলতে এমন শিক্ষা যার সাথে মানুষের মুক্তি জড়িত। রাসুল (সা.) প্রত্যেক শিক্ষকের জন্য ক্ষমার উল্লেখ করেননি; বরং মানুষের উত্তম শিক্ষা দাতার কথা বলেছেন। যেন তার দ্বারা স্পষ্ট হয়ে যায় যে, উক্ত ক্ষমার উপযুক্ত ঐ শিক্ষক যিনি মানুষকে কল্যাণের পথে পৌঁছার জন্য ইলম শিক্ষা প্রদান করে থাকেন।
মু’মিন ও মু’মিনদের আত্মীয় ও তাওবাকারীদের জন্য
এই মহা সত্যের বর্ণনা নিম্নের আয়াতগুলিতে রয়েছেঃ
“যারা আরশ বহনে রত এবং যারা তার চতুষ্পার্শে ঘিরে আছে, তারা তাদের রবের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে প্রশংসার সাথে এবং তাতে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং মু’মিনদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে বলে, হে আমাদের রব! তোমার দয়া ও জ্ঞান সর্বব্যাপী। অতএব, যারা তাওবা করে এবং তোমার পথ অবলম্বন করে তুমি তাদেরকে ক্ষমা করও এবং জাহান্নামের শাস্তি হতে রক্ষা কর। হে আমাদের রব! তুমি তাদেরকে দাখিল কর স্থায়ী জান্নাতে, যার প্রতিশ্রুতি তুমি তাদেরকে দিয়েছ এবং তাদের পিতা-মাতা, পতি-পত্নী ও সন্তান-সন্ততিদের মধ্যে যারা সৎকর্ম করেছে তাদেরকে। তুমি তো পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় এবং তুমি তাদেরকে শাস্তি হতে রক্ষা কর। সেদিন তুমি যাকে শাস্তি হতে রক্ষা করবে, তাকে তো অনুগ্রহই করবে; এটাই তো মহা সাফল্য।’’ (সূরা মু’মিনুনঃ৭-৯)
শেষ কথাঃ
উপরের আলোচনা থেকে আমাদের সামনে স্পষ্ট হয়েছে যে, সব মানুষের কল্যাণের জন্য মালাকগণ দুআ করে না। বরং বিশেষ গুণ সম্পন্ন মানুষের প্রতি এ দু’আ করে থাকে। আর মুলতঃ এ কল্যাণের দু’আ আল্লাহই মালাকদের করতে বলেন। কেননা, মালাকগণ তো নিজে কিছু করতে পারে না। সুবহান্নাল্লাহ! মালাকগণ মানুষের জন্য দু’আ করবে এটা কত বড় সুভাগ্যবান বিষয়। অথচ অনেক মানুষ আজ এ কাজ গুলো করছে না। তারা মাজারে ও মৃত্যু অলীর নিকট দু’আর জন্য আবেদন করছে। নাউযুবিল্লাহ।
আসুন ! আপনি যদি মালাকদের আশীর্বাদ ও কল্যাণের দু’আ নিয়ে নিজেকে ধন্য করতে চান। তাহলে উপরোক্ত কাজগুলো আমল করুন। মালাকগণ সর্বদা নজরদারিতে আছে। যখন কোন নারী – পুরুষ উক্ত আমলসমূহ করবে তখনই তার উপর মালাকগণ দু’আ শুরু করবেন। আল্লাহ আমাদেরকে মালাকদের দু’আ নেওয়ার উপযুক্ত ব্যক্তি হিসাবে কবুল করুন। আমীন।
7:52 PM Posted by Just for you 0

Thursday, September 13, 2012

দশ মিনিটে আপনি কি করতে পারেন?



রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,
আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল হলযা নিয়মিত করা হয়। তা অল্পই হোক না কেন। [সহীহ বুখারী ৬০২০ ইফা]
আমার নিজের অবস্থা ও যারা সময় অপচয় করে তাদের অবস্থা দেখে আমার ইচ্ছে হল আল্লাহ তায়ালাকে ইবাদত ও আনুগত্যের কাজে নিজেদেরকে অনুপ্রাণিত করতে একটি সুপরিচিত আমল সমূহের তালিকা তৈরি করি, যে আমলের কারণে আল্লাহ আমাদের জন্য সম্মান ও বিশাল পুরস্কার প্রস্তুত করে রেখেছেন। এই তালিকাটি আমাদের সময়কে আরও ভালভাবে ব্যবহার করা ও প্রতিটি ঘণ্টায় পাওয়া সুযোগ গুলো কাজে লাগানোর কথাও মনে করিয়ে দেবে। তালিকা তৈরির উদেশ্য শুধু আমলগুলোকে সামনে তুলে ধরা নয়, বরং এটাও দেখানো যে ভাল কিছু করার জন্য আয়োজন, পরিকল্পনা এবং সময় বাঁচানোটাও কতটা জরুরী।
প্রথমেই আসুন সময় নিয়ে কথা বলি, যে ব্যপারে আমরা অনেকেই উদাসীন থাকি ও অপচয় করি, এবং খুব কম লোকই যার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারে। সময় হল সম্পদের মত, যা খরচ ও সামলানোর কাজেও যত্নবান হতে হয়। যদিও সম্পদকে পুঞ্জিভুত করা যায়, জমিয়ে রেখে দেওয়া যায়, এমনকি বাড়ানোও যায়; কিন্তু সময়ের ব্যপারে তেমনটি হয় না। সারা পৃথিবীর সম্পদ ব্যয় করেও একটি মিনিটও ফিরিয়ে আনা যায় না। যেহেতু সময় নির্দিষ্ট, এগিয়েও নেয়া যায় না, আবার পিছিয়েও নেয়া যায় না; আবার সময়ের মূল্য নির্ভর করে কিভাবে এর ব্যবহার করা হয়েছে তার উপর- তাই প্রত্যেকের উচিৎ কম হোক বা বেশি হোক সময় বাচাঁনো। প্রত্যেকের উচিত সময়ের ব্যপারে উদাসীন না হয়ে এর সর্বোত্তম উপায়ে সদ্ব্যবহার করা।
সময় বাঁচাতে হলে তা কোথায় ও কিভাবে খরচ হচ্ছে তার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। আল্লাহ তায়ালার আনুগত্যের মাধ্যমে ব্যয় করাই হল সময়ের সর্বোত্তম ব্যবহার। আনুগত্যের কাজে ব্যয় করা সময়ের ব্যাপারে কাউকে কখনও অনুশোচনা করতে হয় না। একমাত্র অনুশোচনার বিষয় হতে পারে যদি কেউ নেক আমলের আগে নিয়্যত না করে থাকে। কাজেই ভাই ও বোনেরা, আগে নিজের লক্ষ্য নির্ধারণ করুন, আন্তরিকভাবে নিয়ত করুন, সময় বাঁচানোর চেষ্টা ও একটি মিনিটও অপব্যয় না করার সাবধানতা দিয়ে শুরু করুন।
সম্মানিত ভাই ও বোনেরা,
বিষয়টি সহজ করার জন্য আমি দশ মিনিট সময়-কাল নির্ধারণ করেছি (এখানে উল্লিখিত নেক আমল গুলো করার জন্য), যাতে করে কেউ এগুলো শুরু করার পর তিনি সব সময়ই আল্লাহর রহমতে ভাল কাজে নিয়মিতভাবে নিয়োজিত থাকতে পারেন। আর এ সব কাজ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর সেই হাদিসের বক্তব্যও অনুসরণ করে যে,
আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল হলযা নিয়মিত করা হয়। তা অল্পই হোক না কেন। [সহীহ বুখারী ৬০২০ ইফা]
ইমাম নববী (রঃ) এ হাদীসের ব্যাপারে বলেছেনএকটানা নিয়মিত আমল করার ব্যাপারে একটি তাকিদ এ হাদীস খানাবিঘ্নিত কোনও বড় আমলের চেয়ে একটি সামান্য কাজও উত্তম যা নিয়মিত করা হয়। এটা এজন্য যে ছোট ছোট আমল যাতে আছে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তায়ালার প্রতি আনুগত্য স্মরণতাক্বওয়ানিষ্ঠাএকাগ্রতা- নিয়মিত করা এসবের একত্রিত ফলই হবে  বিঘ্নিত বড় কাজের চেয়ে বেশি।
প্রিয় ভাই-বোনেরা, সঠিক কাজে দশ মিনিট ব্যয়ের যে নেয়ামাত তার একটি উদাহরণ দিচ্ছি। প্রতিদিন একশত বার “সুবহানআল্লাহ”বলে আল্লাহর প্রশংসা করার অর্থ হচ্ছে বছরে ৩৬,৫০০ বার করা। ভাই ও বোনেরা, আমলের খবর নিন। আপনি বছরে আল্লাহর এই পরিমান জিকির করতে পারবেন যদি আপনি তাসবীহটি নিয়মিত পাঠ করেন আর এভাবে সময়ের সদ্ব্যবহার করে থাকেন।
এমনি ভাবে, কেউ যদি নিয়মিত দশ মিনিট কুরআন তেলাওয়াত করে, সে প্রতি দুই মাসে একবার করে খতম করতে পারে। আপনি কি এভাবে করেন? নিজেকে প্রশ্ন করুন, রমজান মাস ছাড়া কি কোরআন খতম করা হয়? প্রিয় ভাই-বোনেরা, প্রতিদিন এই বিশেষ দশ মিনিটকে একটি বার মাত্র একাগ্র চিত্তে আনুগত্যের মধ্যেই সীমিত করবেন না। আপনি হয়ত এরকম সময়  ফজরের নামাজের পরে, বা সূর্যোদয়ের পরে, যোহরের পর অথবা ঘুমানোর আগেও দিনে কয়েকবার বের করতে পারেন।
তেমনি, কেউ যদি প্রতিদিন আল্লাহ তা’য়ালার কিতাবের একটি করে আয়াত মুখস্ত করতে পারেন, তিনি মাত্র আট বছরেই সম্পূর্ণ কুরআন মুখস্ত করে ফেলবেন।
উপরে উল্লেখিত আমলগুলোর বেশিরভাগই জিহ্বার কাজ, কাজেই যেকোনো সময় যেকোনো অবস্থায় সওয়াব অর্জন করা সম্ভব। সুতরাং যে আল্লাহর আনুগত্যে লিপ্ত থাকতে চায়, নেক কাজের দরজাগুলো তার জন্য খোলাই আছে, এবং সে তার দিনটিকে, এমনকি সমস্ত জীবনকেই এই দশ মিনিটের মতো করে নিতে পারেন।
প্রিয় ভাই ও বোনেরা, এটি আপনাদের জন্য একটি চমৎকার সুযোগ। এইভাবে দশ মিনিট করে চর্চার মাধ্যমে আপনি নিয়মিত নেক আমল চালিয়ে যাওয়ার মাধুর্য আস্বাদন করতে পারবেন, এবং এটি আপনার সমস্ত জীবনকে সার্থক করার জন্য সময়ের সদ্ব্যবহারের লক্ষ্যে একটি উপযুক্ত পদক্ষেপও হবে। এই দশ মিনিটের সময়টুকু আমাদেরকে সৃষ্টির উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে কাজে লাগাতে পারব। কারণ আল্লাহ বলেছেন-
‘আর জ্বিন ও মানবকে আমি শুধু আমার উপাসনা করার জন্যই সৃষ্টি করেছি।’ [সূরা আল যারিয়াতঃ ৫৬]
ইবনুল কাইয়্যিম (রঃ) বলেন: পরিশেষে বান্দা যখন আল্লাহর পথ থেকে সরে যায় এবং পাপে জর্জরিত হয় (পৃথিবীতে), সে প্রকৃত জীবনের (আখিরাতে) দিন গুলি হারিয়ে ফেলে। দিনগুলি হারিয়ে ফেলার ফল সে দেখতে পাবেযে দিন বলবে,
“সে বলতে থাকবে, হায়! আমাকে যদি আবারও দুনিয়াতে [কিছু ভাল কাজে] পাঠানো হত [অর্থাৎ সত্যিকার, স্থায়ী জীবন হল আখিরাতে]।” [আল-ফাজর :২৪]
দশ মিনিটেই করে ফেলা যায় এমন কিছু কাজ:
  • পূর্বাহ্নে নামায পড়া (দুহা)
  • কুরআন তেলাওয়াত করা (বুঝে)
  • নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর দুরূদ-সালাম পাঠ করা
  • আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’য়ালাকে স্মরণ করা
  • সুবহানআল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ্‌ও লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলা
  • শিশুদের ইসলাম শিক্ষা দেওয়া
  • দোয়া করা
  • আত্ম-সমালোচনা করা
  • ইসলামি বই পড়া
  • অপরের কষ্ট দূর করা ও প্রয়োজন পূরণ করা
  • আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করা
  • দাওয়াহ মূলক ওয়াজ/বক্তব্য শোনা
  • আল্লাহর উদ্দেশ্যেই মুমিনদের সাথে সাক্ষাৎ করা
  • ফরজ ইবাদাতের পর জিকির করা
  • মানুষের মাঝে শান্তি স্থাপন করা
  • সৎ-উপদেশ দেওয়া
  • আত্মীয়দের ফোন করা
  • নিজের অসিয়্যত লেখা
  • সাদকাহ করা
  • নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সীরাত পড়া
  • দ্বীনি বিষয়ে গভীর ভাবে চিন্তা করা
  • দাওয়াহ মূলক তথ্য মেইল করা
  • দরিদ্রকে আহার করানো
  • ইস্তিখারার নামাজ পড়া
  • ইয়াতিমের যত্ন নেওয়া
  • পরিবারে সাহায্য করা
  • জ্ঞান অন্বেষণ করা
  • সৎ কার্যের আদেশ দেয়া
  • সিজদা করা
  • ইসলামি জ্ঞান প্রচার করা
  • আল্লাহর পথে ডাকা
  • সাদকায়ে জারিয়াহ (অবিরত পুরষ্কার পাওয়া যাবে এমন দান) প্রদান করা
  • সন্তানকে শিক্ষাদান ও যত্ন নেয়া
  • মুয়াজ্জিনের  আযানের জবাব দেওয়া
  • তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করা
এখন আপনিই সিদ্ধান্ত নিন আপনার দশ মিনিট আপনি কি কি করে কাজে লাগাবেন।
সূত্র: “মাযা তাফয়াল ফী আশারা দাক্বা’য়িক”
11:45 AM Posted by Just for you 0

Sunday, July 8, 2012

যারা পিছনে পড়ে থাকে তাদের জন্য একটি উপদেশ



তোমরা যারা আল্লাহ্‌র রাস্তাই সংগ্রামকে (জিহাদকে) অবহেলা করেছ এবং সফলতার পথ হতে দূরে সরে থেকেছঃ তোমরা নিজেদেরকে আল্লাহর করুণা রহমত হতে বঞ্চিত হবার অবস্থানে নিয়ে এসেছ এবং নিজেদেরকে সর্বশ্রেষ্ঠ পুরস্কার হতে বঞ্চিত করেছ

কিসে তোমাদের পেছনে ফেলে রাখল? কেন তোমরা প্রকৃত আল্লাহ্‌র বান্দাদের সারিতে যোগদান করনি? কেন তোমরা তোমাদের জীবন অযথা সম্পদ বিসর্জনে ইতসত্মত করেছ?

নিম্নলিখিত কারণগুলোর একটি নিশ্চয় হবেঃ দীর্ঘ জীবণ কামনা; পরিবার, সম্পত্তি, বন্ধুবান্ধবের (সাথে সম্বন্ধ) আসক্তিআল্লাহ্‌র রাস্তাই সংগ্রামের (জিহাদের) আগে আরও কিছু সৎকর্ম করবার বাসনা;  সুন্দরী স্ত্রীর প্রতি ভালবাসা; ক্ষমতা/পদমর্যাদা; অথবা আরামদায়ক জীবনোপকরণের প্রতি আসক্তি এছাড়া আর কিছুই তোমাদের ধরে রাখতে পারেনা; উপরে বর্ণিত কারনগুলোর কোন একটিই তোমাদেরকে আল্লাহর থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে তোমরা কি শুনতে পাওনা তোমাদের প্রতি আল্লাহর ডাক,
‘‘হে মুমিনগন! তোমাদের কি হল যে, যখন তোমাদেরকে বলা হয় -বের হও আল্লাহর পথে, তখন তোমরা মাটিতে লেগে থাক (অলস ভাবে বসে থাক) তাহলে কি তোমরা পরকালের বিনিময়ে পার্থিব জীবনের উপর পরিতুষ্ট হয়ে গেলে? বস্ত্ততঃ পার্থিব জীবনের ভোগ বিলাসতো আখিরাতের তুলনায় কিছুই নয় অতি সামান্য’’ (সূরা আত তাওবাহ ৯ঃ৩৮)

মনেযোগ দিয়ে শোন, যা কিছু তোমাদের আল্লাহ্‌র রাস্তাই সংগ্রামে (জিহাদে) যাওয়া হতে বিরত রাখছে তার প্রতি কি জবাব আমি দিই তাহলে তোমরা উপলব্ধি করতে পারবে যে তোমরা (ভাল থেকে) বঞ্চিত এবং মনে রাখতে পারবে যে তোমরা নিজেরা আর শয়তান তোমাদের আল্লাহ্‌র রাস্তাই সংগ্রামে (জিহাদে) যাওয়া থেকে বিরত রয়েছে

. দীর্ঘ জীবন কামনা

আল্লাহ্‌র নামে বলছি, নির্ভীকতা আয়ু কমিয়ে দেয় না; আর কাপুরুষতা একে বৃদ্ধি করেনা আল্লাহ বলেন, ‘‘প্রত্যেক জাতির জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় আছে, সুতরাং যখন সেই নির্দিষ্ট সময় উপস্থিত হবে, আল্লাহ তখন কাউকেই অবকাশ দিবেন না,তোমরা যা কর আল্লাহ তা সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত’’ (সূরা মুনাফিকুন ৬৩ঃ১১)

এবং তিনি আরও বলেন, ‘‘জীব মাত্রই মৃত্যুর স্বাদগ্রহনকারী; অতঃপর তোমরা আমারই নিকট প্রত্যবির্তিত হবে’’ (সূরা আনকাবুত ২৯ঃ৫৭)

তোমরা যারা নিজেদের সাথে প্রতারনা করেছ, মনে রেখ মৃত্যুকালে তীব্র বেদনা যন্ত্রনা রয়েছে আর কিয়ামতের পর বিচার দিবসে রয়েছে প্রচন্ত ভয় তোমাদের মনে পড়ে কি, যে শহীদ এই সমস্ত কিছু থেকে মুক্তি প্রাপ্ত হয়? 
সে মুত্যুযত্রনার কিছুই অনুভব করে না- সামান্য কাঁটা ফোটার মত ব্যাথা ছাড়া প্রিয় ভাই আমার, তবে কেন এমন সুযোগ হেলায় হারানো? আর মুত্যুর পর কবরের অযাব থেকে তুমি মুক্তিলাভ করবে, কবরে ফিরেশতাদের কোন প্রশ্ন উত্তরের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে না, এবং বিচারদিবসে যখন সবাই থাকবে ভীত সন্ত্রস্ত তখন তুমি থাকবে শাসত্ম স্থির মৃত্যুর পর তোমার আত্মা একটি পাখির দেহে ঢুকিয়ে দেয়া হবে যা জান্নাতে উড়ে বেড়াবে সাধারন মৃত্যু এবং শাহীদ হবার মধ্যকার পার্থকটা বুঝতে পারছ তো?

. পরিবারের সাথে সম্পৃক্ততা

যা আপনাকে জিহাদে যাওয়া থেকে বিরত রাখছে, তা যদি হয় পরিবার পরিজন, সহায় সম্পত্তি, বন্ধু বান্ধব, তবে দেখুন আল্লাহ কী বলেন, ‘‘তোমাদের ধন সম্পদ সন্তান- ন্ততি এমন কিছু হয় যা তোমাদেরকে আমার নিকটবর্তী করে দিবে যারা ঈমান আনে সৎকর্ম করে তারাই তাদের কর্মের জন্য পাবে বহুগুন পুরস্কার আর তারা প্রসাদে নিরাপদ থাকবে’’ (সূরা সাবা, ৩৪ঃ৩৭)

আরও বলেন তোমরা জেনে রেখ যে, ‘‘পার্থিব জীবন তো ক্রীড়া কেীতুক, জাকজমক, পারস্পরিক অহংকার প্রকাশ, ধন- সম্পদ সন্তান-সন্ততিতে প্রাচূর্য লাভের প্রতিযোগতা ব্যাতীত আর কিছুই নয়; ওর উপমা বৃস্টি, যদ্দারা উৎপন্ন শস্য- সম্ভার কৃষকদের চমৎকৃত করে; অতঃপর ওটা শুকিয়ে যায়, ফলে তুমি ওটা পীতবর্ন দেখতে পাও অবশেষে ওটা খড়কুটায় পরিনত হয় পরকালে রয়েছে কঠিন শাসিত্ম এবং আল্লাহর ক্ষমা সন্তুস্টি পার্থিব ছলনাময় ভোগ ব্যাতীত কিছুই নয়’’ (সূরা হাদীদ ৫৭ঃ২০)

রাসূলুললাহ (সা) বলেছেন, জান্নাতে চাবুকের নিচে বা পায়ের নিচের জমিটুকুও এই পৃথিবী এবং এর ভেতর যা কিছু আছে তার থেকে উত্তম“ (বুখারী)

সুতরাং জান্নাতের বিশাল রাজ্য এই পার্থিব পরিবারের বিনিময়ে ছেড়ে দেয়া কি বুদ্ধিমানের কাজ হবে, যারা অচিরেই মৃতদের মাঝে শামিল হবে? হতে পারে এই পরিবারই আপনার প্রতি বিদ্বেষ, দূর্ব্যবহ্যর আর ঈর্ষা পোষন ,করে যদি আপনার টাকা পায়সা থাকে তবে তারা আপনাকে ভালবাসে, আর যদি আপনি দেউলিয়া হন তবে তারা আপনাকে ত্যাগ করে একদিন তারা আপনার সাথে, অন্যদিন আপনার বিরুদ্ধে অবশেষে বিচার দিবসে, তারা আপনাকে আর ঘাটবে না এবং এক পয়সা পরিমান ছাড়ও তারা আপনাকে দেবে নাএমনকি পরস্পরের জন্যও তারা আপনাকেই দায়ী করবে তারা প্রত্যেকেই সেদিন নিজেকে উদ্ধার করতে চাবে, এমনকি যদি এর বদলে আপনাকে জাহান্নামের আগুনে জলতে হয়

. সম্পদের প্রতি ভালবাসা

যদি এটাই আপনাকে আল্লাহ্‌র রাস্তাই সংগ্রাম (জিহাদ) হতে বিমুক রেখে থাকে তাহলে বলতে হয়, কী করে সম্ভব যখন আপনি জানেন যে পরীক্ষামূলক এই সম্পদ আপনাকে একসময় হারাতে হবে? এবং এই সম্পদের জন্যই বিচার দিবস আপনাকে জিজ্ঞাসা করা হবে কীভাবে এই সম্পদ গড়ে তুলেছেন? আর কীভাবে তা খরচ করেছেন? ২টি প্রশ্ন আপনাকে এমন এক দিনে জিজ্ঞাসা করা হবে যেদিন একটি বাচচাও চুল পেঁকে বুড়ো হয়ে যাবে বড়ই ভয়ংকার সে দিন

আল্লাহর রাসূল (সা) বলেছেন, দরিদ্র মুসলিমরা ধনী মুসলিমদের অর্ধদিন পূর্বেই জান্নাতে প্রবেশ করবে (যা হবে) ৫০০ বছর (এর সমান)

আল্লাহ বলেন, ‘‘তোমাদরে সম্পদ সন্তান সন্ততি তো তোমাদের জন্য পরীক্ষা; আল্লাহরই নিকটে রয়েছে মহা পুরষ্কার’’ (সূরা তাগাবুনঃ ১৫)

এরপরও কিভাবে আপনার সম্পদ আপনাকে আল্লাহ্‌র রাস্তাই সংগ্রাম (জিহাদ) হতে বিরত রাখে?

. সন্তান সন্ততির প্রতি ভালবাসা এবং তাদের জন্য উদ্বিগ্র হওয়া

এর কারন কি এই যে আপনি তাদের জন্য উদ্বিগ্ন? কিন্তু আপনার চেয়ে আল্লাহই তাদের জন্য অনেক বেশী চিন্তাশীল আল্লাহ কি তাদের ব্যবস্থা করে দেননি যখন তারা অন্ধকারাচছন্ন মাতৃগর্ভে ছিল!

এমন এক সন্তান কি করে আপনাকে আল্লাহ্‌র রাস্তাই সংগ্রাম (জিহাদ) হতে বিরত রাখে যখন ছোটকালেও তাকে নিয়ে আপনি চিন্তিত ছিলেন আর বড় হবার পরও তারা সুস্থ হোক বা অসুস্থ আপনি তাদের নিয়েই চিন্তা ভাবনা করেন্ আপনি তাদের অবজ্ঞা করলে তারা বিদ্রোহ বিরোধিতা করে তাদেরকে উপদেশ দিলে তারা আপনাকে ঘৃনা করে আপনার এত ভালবাসার পরও, যখন আপনি বৃদ্ধ বয়সে উপনীত হন, তখন তারা আপনাকে পরিত্যাগ করে চলে যায়! এরপরও আপনি তাদের আশীর্বাদ হিসেবে দেখেন!

আপনার মন থেকে তাদের বিতাড়িত করে বের করে দিন! তাদের যিনি সৃষ্টিকর্তা তার হাতে সপে দিন ওদের আর আল্লাহর উপর ভরসা করুন তাদের সুব্যবস্থার জন্য যেমনটি নিজের জন্যও তাঁরই উপর ভরসা করেন তাদের ব্যবস্থার ব্যাপারে যদি আপনি আল্লাহর উপর ভরসা করতে না পারেন তবে এটা কী করে স্বীকার করেন যে আল্লাহই এই আসমান জমীনের সব কিছুর নিয়ন্ত্রক?

আল্লাহর নামে বলছি, ওদের বা আপনার উপর যে মঙ্গল বা অমঙ্গল আপতিত হয় তার উপর আপনার কোনই হাত নেই তাদের বা আপনার নিজের জীবনের উপর আপনার কোনই নিয়ন্ত্রন নেই আপনার আয়ুর সাথে ১টি দিন যোগ করার ক্ষমতাও আপনার নেই একদিনের মধ্যেই আপনি মৃত্যুবরন করবেন এবং সন্তানদের ইয়াতীম হিসেবে রেখে যেতে হবে তখন আপনি আফসোস করবেন হায় আমার এতিমরা; আমি যদি শহীদদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারতাম! জবাব দেয়া হবেঃ এখন অনেক দেরী হয়ে গেছে আল্লাহ বলেন

‘‘হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবকে ভয় কর এবং ভয় কর সেই দিনকে যখন পিতা সন্তানের কোন উপকারে আসবে না এবং সন্তানও কোন উপকারে আসবে না তার পিতার! আল্লাহর প্রতিশ্রতি সত্য সুতরাং পার্থিব জীবন যেন তোমাদেরকে কিছুতেই প্রতারিত না করে এবং সেই প্রবঞ্চক (শয়তান) যেন তোমাদেরকে কিছুতেই আল্লাহ সম্পর্কে প্রবঞ্চিত না করে’’ (সূরা লুকমান ৩১ঃ৩৩)

এখন, আপনার সন্তান যদি সফলকামদের (জান্নাতী) অন্তর্ভুক্ত হয় তবে আপনাদের জান্নাতে পুনর্মিলিত করা হবে আর যদি সে

ক্ষতিগ্রসত্মদের অন্তর্ভুক্ত হয় তবে তার জন্য অপেক্ষা কেন? এখন থেকেই আলাদা হয়ে যান! যদি সত্যই আপনি আপনার সন্তানের জন্য উদ্বিগ্ন হন তবে শহীদ হন আপনি পরিরারে ৭০টি সদস্যের জন্য আবেদন করতে পারবেন তবে আর কীসের জন্য অপেক্ষা?

. আপনার বন্ধু বান্ধব

যদি আপনি আপনার বন্ধু বান্ধব পরিচিতদের ফেলে যেতে অপারগ হন তবে বিচার দিনের কথা চিন্তা করম্নন সে দিন বন্ধু শক্রতে পরিনত হবে কেবল সৎকর্মশীলগন ব্যাতীত অতএব আপনার বন্ধুরা যদি সৎ কর্মশীল না হয় তবে তাদের সাথে আর থাকতে চেয়েন না কেননা কাল অবশ্যই তারা আপনার বিরম্নদ্ধে যাবে তবে তারা যদি সৎকর্মশীল হযে থাকে তবে আল্লাহ আপনাদের এর চেযে ভাল জায়গায় পুর্নমিলিত করবেন আল্লাহ বলেনঃ‘‘আমি তাদের অন্তর হতে ঈর্ষা দূর করব তারা ভাতৃভাবে পরস্পর মুখোমুখি হয়ে অবস্থান করবে’’ (সূরা হিজর ১৫ঃ৪৭)

. ক্ষমতা মর্যাদা

আপনি হয়ত  আল্লাহ্‌র বান্দাদের (মুজাহিদীনদের) সারিতে যোগ দেয়া হতে বিরত রয়েছেন কারন আপনি যে উচচপদ, ক্ষমতা মর্যাদা হাসিল করেছেন এই দুনিয়ার তা হারাতে চান না আপনি এখন যে পদে অধিষ্ঠ হয়েছেন এর আগে আর কতজন এই পদে ছিল পদ যদি তাদের ছেড়ে যেতে পারে তবে নিঃসনেদহে একদিন আপনাকেও ছেড়ে যেতে হবে আপনার ক্ষমতা সে তো অস্থায়ী আর আপনার প্রতিপত্তি মর্যাদা এসবও মানুষ শীঘ্রই ভুলে যাবে আপনার পদমর্যদা, ক্ষমতা প্রতিপত্তি আপনাকে জান্নাতের পথ হতে দূরে রাখছে জান্নাতের সর্বনিম্ন ব্যাক্তিও এই পৃথিবীর দশগুন এলাকা এবং এর অন্তর্ভূক্ত সবকিছুর অধিকারী হবে এতো কেবল জান্নাতের সর্বনিম্ন ব্যক্তির মর্যদা ক্ষমতা যা পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতা বান রাজার চেয়েও বেশি

এই পৃথিবীর কিছুই দূষণমুক্ত বা বিশুদ্ধ নয় আপনি যে সামাজিক মর্যাদার অধিকারী হয়েছেন, এটার বেশ বড় একটি অংশ জুড়ে রয়েছে হতাশাব্যঞ্জক অনেক কিছু ক্ষমতা পদমর্যদার জন্য অপনাকে অনেক লড়াই করতে হবে এতে অনেক শত্রম্নর জন্ম হবে আর হারাতে হবে বন্ধুদের পথিমধ্যে অনেক বেদনা, অনেক ব্যর্থতা সহ্য করতে হবে আর জান্নাত সমসত্ম কিছু থেকে মুক্ত আল্লাহ বলেন, ‘স্থায়ী জান্নাত, তাতে তারা প্রবেশ করবে এবং তাদের পিতা-মাতা পতি পত্নী সন্তান সন্ততিদের মধ্যে যারা সৎকর্ম করেছে তারাও এবং ফেরেশতা তাদের আছে হাযির হবে প্রত্যেক দরজা দিয়ে বলবে, তোমরা ধৈর্য্য ধারণ করেছ বলে তোমাদের প্রতি শান্তি কতই না ভাল এই পরিনাম! (২৪) ’’ (সূরা রাদঃ ১৩)

. আরামদায়ক জীবনযাপনের প্রতি আসক্তি

হতে পারে আপনার বিশাল বাসভবনের শান্তি, বাগানের ছায়া, শয্যার আরাম, আপনার চতুর্দিকের সমস্ত আমোদ প্রমোদ, যা জীবনকে করেছে আরামদায়ক মনোরম কিন্তু মনে রাখবেন, এগুলোর কোনটিই চিরস্থায়ী নয় আপনার এই বিলাসবাহল বাড়ির ইট পাথর, চুনসুরকি দ্বারা তৈরী বাড়ি ছাড়া আর কিছুই নয় এটা যদি পরিস্কার করা না হয় তাহলে এটা নষ্ট হয়ে যাবে, আর যদি ঠিকমত রক্ষনাবেক্ষন না করা হয় তবে এটার পতন ঘটবে ঘটনাক্রমে একদিন এটাই ধুলাবালিতে পরিণত হবে যা থেকে এটা তৈরী করা হয়েছিল আপনি কি এর চেয়ে সোনা রূপার ইটের তৈরী প্রাসাদে থাকতে বেশি পছন্দ করবেন না?

এমন প্রাসাদ যা চিরস্থায়ী এবং যার কোন রক্ষনাবেক্ষনের প্রয়োজন নেই এর আসবাবপত্র পছনদীয় এবং সুবিন্যসত্ম করে সাজিয়েছে ফেরেশতারা আর এতে আপনাকে সার্বোৎবৃষ্ট খাবার পরিবেশন করবে এমন দাস-দসীরা, যাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, ‘‘তাদেরকে পরিবেশন করবে কিশোরগন, তাদেরকে দেখে মনে হবে তারা যেন বিক্ষেপ্ত মুক্তা’’

জান্নাত সবকিছুই পরিছন্ন, সবকিছুই পবিত্র সেখানে কোন প্রকৃতির ডাক বা ঘাম নেই আমাদের দেহ ভিন্ন এক রূপ নিয়ে আসবে জীবন সেখানে অসীম সেখানে সময়ের কোন চাপ নেই জান্নাতীরা যখন তখন যা ইচছা যতক্ষন খুশি ততক্ষনই করতে পারবে তারা সিংহাসনে হেলান দিয়ে ন্ত্রীর সাথে ৪০ বছর কথা বলতে পারবে আপনার এবং এত আমোদপ্রমাদের মাঝে শহীদ হওয়া ছাড়া আর কিছুই কোন বাধা নেই এই জীবনপদ্ধতির সাথে দুনিয়ার জীবনপদ্ধতির তুলনা করে দেখুন

. অধিক সৎকর্ম করার জন্য দীর্ঘায়ু কামনা

আপনি হয়ত আল্লাহ্‌র রাস্তাই সংগ্রামে (জিহাদে) অংশগ্রহন করতে চাছেন না, কারন আপনি এর জন্য প্রস্তুত নন এবং আপনি আরও নেককাজ করতে চান অর্থাৎ আপনি উত্তম নিয়্যতে  আল্লাহ্‌র রাস্তাই সংগ্রাম (জিহাদ) থেকে দুরে আছেন কিন্তু শুনুন, আপনি প্রতারিত বা বঞ্চিত হচেছন আল্লাহ বলেন,
‘‘হে মানুষ! আল্লাহর প্রতিশ্রম্নতি সত্য; সুতরাং পর্থিব জীবন যেন তোমাদেরকে কিছুতেই প্রতারিত না করে এবং সেই প্রবঞ্চনা যেন কিছুতেই আল্লাহর সম্পর্কে প্রবঞ্চিত না করে তোমাদেরকে শয়তান তোমাদের শক্র; সুতরাং তাকে শক্র হিসেবে গ্রহন কর; সে তো তার দলবলকে আহবান করে শুধু এজন্য যে, তারা যেন জাহান্নামের সাথী হয় ’’ (সূরা ফাতির -)

এটা শয়তানের ফাঁদ ছাড়া আর কিছুই নয় এটা আল্লাহর আউলিয়াদের (বন্ধু) পথ নয় সাহাবা এবং তাবিঈনরা কি সৎকর্মের প্রতি আপনার চেয়ে বেশি উৎসাহী ছিলেন না আপনি কি শুনেননা আল্লাহ আপনাকে বলছেন ‘‘বের হও হালকা আথবা ভারী (স্বল্প সরঞ্জামের সাথেই হোক, অথবা প্রচুর সরনঞ্জামের সাথেই হোক) এবং আল্লাহর পথে নিজেদের ধন-সম্পদ প্রান দ্বারা যুদ্ধ কর এটাই তোমাদের জন্য অতি উৎম, যদি তোমরা জানতে’’ (সূরা তওবা ৯ঃ৪১)

আপনিকি দেখছেন না যে, নিজেকে শুধরানোর বা আরও ভাল করবার সর্বোত্তম পন্থা হচেছ জিহাদের মাধ্যমে আল্লাহ বলেন, ‘‘আল্লাহ ধন পা্র দ্বারা জিহ দে অংশগ্রহনকারীদেরক� � গৃহে উপবিষ্টদের উপর পদমর্যাদায় গৌরবান্নিত করেছেন ... উপবিষ্টদের উপর মুজাহিদদের মহান প্রতিদানে গেীরবান্তিত করেছেন’’ (সূরা আন-নিসাঃ৯৫)

প্রকৃত অর্থে জিহাদের সমতুল্য কিছুই নেই রাসূল (সা) বলেছেন, যুদ্ধের ময়দানে সৈন্যদের সারিতে দাড়িয়ে থাকা, পরিবারের মধ্যে ৭০ বছর আল্লাহর ইবাদত করার চেয়ে উত্তম“(তিরমীজি আল- বায়হাকী আল-হাকীম)

. স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা

যদি আপনি সুনদরী স্ত্রীর কারনে জিহাদে যেতে অপারগ হন, আর আপনার তাকে যদি পৃথিবীর সর্বোৎবৃষ্ট নারী সবচেয়ে সুনদরী বলে মনে হয় তবে শুনুন, সেও কি একসময় সামান্য একটা মাংস পিন্ড ছিল? এবং একসময় সেও কি পঁচে নিঃশেষ হয়ে যাবে না? মাসিকের কারনে আপনাকে তার থেকে দূরে থাকতে হয়েছে জীবনের অনেকটা সময় সে বাধ্য হবার থেকে অবাধ্যই বেশি ছিল সে যদি নিজেকে পরিস্কার না রাখত তবে তার থেকে দুর্গন্ধ আসত যদি সে চুল না আচড়াত তবে তা অবিন্যসত্ম বা এলেমেলো হয়ে থাকত বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে যে আরও কৃৎসিত হতে থাকে তাকে খুশী করা সহজ নয়, তার ভালবাসা রক্ষার্থে আপনাকে অনেক খরচ করতে হয় আপনি সবসময় তাকে খুশী করতে চান বা প্রভাবান্বিত করতে চান কিন্তু কিছুই যেন যথেষ্ট হয় না তার জন্য সে আপনাকে শুধু তখনই ভালবাসে যখন সে যা চায় আপনি তাই দেন আর যদি না দেন তবে সে আপনাকে ছেড়ে অন্য কাউকে খুঁজে নিবে যেন, ‘যদি আমাকে চাও তবে খরচ কর আমার জন্য’! সাধারন ভাবে একসাথে অবিরাম/চিরস্থায়ী দুঃখ যন্ত্রনা ছাড়া তাকে উপভোগ করা সম্ভব নয়

এটা খুবই আশ্চর্যজনক যে এই নারী আপনাকে জান্নাতের নারী থেকে দূরে রাখে আলাহর নামে বলছি, শহীদের রক্ত জান্নাতে তার স্ত্রীর সাথে দেখা হবার আগে শুকায় না সে হবে সুনদর যার থাকবে বড় বড় দ্যুতিময় চোখ একজন কুমারী যেন একটি পান্না সে আর কাউকে ভালবাসেনি, বাসবেওনা কেবল আপনাকে ছাড়া সে তৈরী হয়েছে কেবল আপনারই জন্য তার একটি মাত্র আঙুলও চাঁদের ঔজ্জল্যকে হার মানবে পৃথিবীতে যদি তার হাতের কব্জিটুকুও প্রকাশ পায় তার সমসত্ম মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়বে সে যদি আসমান যমীনের মধ্যে আবস্থান করে তবে মধ্যবর্তী সম্পৃর্ণ এলাকা তার সুগন্ধে মৌ মৌ করবে আর যদি সে সমুদ্রের পানিতে থুথু ফেলে, তবে এর নোনা পানিও বিশুদ্ধ (খাবার) পনিতে পরিনত হবে

তার দিকে যতই তাকাবেন, সে ততই সুনদর হতে থাকবে তার সাথে যত সময় অতিবাহিত করবেন আপনি ততই তাকে ভালবাসবেন এরকম একজন নারী সম্পর্কে জেনে শুনেও তার সাথে মিলিত হবার চেষ্টা না করা কি বিবেক বুদ্ধির পরিচয় দেয়? আর যদি আপনি জানেন যে, আপনি জন নয় বরং ৭০ টি হুরের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবেন?

মনের মধ্যে রাখুন যে, স্ত্রীকে ছেড়ে যাওয়াটা আবশ্যম্ভাবী আপনি মারা যাবেন এবং সে আপনাদের ইনশাআলাহ জান্নাতে পুনর্মিলিত হবে এবং দেখবেন যে সে, জান্নতের হুরদের চেয়ে বেশি সুনদরী আপনি তাকে পাবেন জীবনের সমসত্ম আসমেত্মাষ মূলক জিনিস হতে মুক্ত

অনেক বেশি দেরী হবার আগেই জেগে উঠুন এই দুনিয়ার কারাগার হতে নিজেকে মুক্ত করুন এবং শহীদের মর্যাদা লাভের জন্য আলাহর কাছে প্রার্থনা করুন এত অসাধারন পুরুস্কার আর আপনার মাঝে কোন কিছুকে বাঁধা হয়ে দাড়াতে দিবেন না

. আবু হুরায়েরা (রাঃ) বর্ণনা করেন রাসূলুলাহ (সাঃ) বলেছেন, শহীদের মৃত্যুযন্ত্রনা কেবল একটি পোকার হুল বিদ্ধের ব্যথার মত(AvZ wZiwghx Avb-bvmv½x Beb gvRvn, Avngv‡Z Avj-Avjevbx nvmvb)

. রাসূল (সাঃ) বলেছেন, আল্লাহর পথে দিনের প্রথম ভাগে অথবা শেষভাগে অভিযানে বের হওয়া এই দুনিয়া এর মধ্যকার সবকিছু হতে উত্তম এবং যদি জান্নাতের কোন রমনী এই দুনিয়ার মানুষদের সামনে নিজেকে প্রকাশ করে, তবে এদের মধ্যকার এলাকা আলো আর সুগন্ধিতে ভরে যাবে আর তার মাথার রূমাল পর্যন্ত এই দুনিয়া এর মধ্যকার সবকিছু হতে উত্তম“ (বুখারী)

তাই হে আমার মুওয়াহিদ ভাইয়েরা! তাহলে কোন্ বিষয়টি আপনাকে জান্নাতের সুমিষ্ট স্বাধ নেয়া থেকে আটকিয়ে রেখেছে, আপনি নিজেই একটু ভেবে দেখুন!!!




মূল লেখাটি ঃ ইসলামি ব্লগস থেকে।
11:49 AM Posted by Just for you 0